বাতায়ন/আতঙ্ক/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | গল্পাণু
প্রদীপ
সরকার
চরিত্র
হনন
"এবার গঙ্গা স্নান করিয়ে ঘরে ঢোকাব, আর যদি পার্টিমুখো হয়, আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। মলির ঘরের চার দেওয়ালে আতঙ্কের আপাত অদৃশ্য কালো ছোপগুলো আস্তে আস্তে হালকা হতে শুরু করেছে।"
গত পাঁচটা দিন রাত ঠিক দেড়টা
বাজতেই ফোনটা বেজে ওঠে। আতঙ্কে সারা শরীরে কাঁপন লাগে। রোজই এককথা,
-স্যারেন্ডার করিয়ে দিন, নইলে যেখানে দেখব এনকাউন্টার করে দেব।
প্রথমদিন নীলকণ্ঠ সাহস করেই
বলেছিল,
-ওর অপরাধ কী, কোনো এফআইআর আছে ওর
এগেনস্টে, আ্যরেস্ট অর্ডার?
ওপার থেকে জবাব এসেছিল,
-ওসব আপনাকে বলব কেন?
যা বলছি
শুনুন, কাল সকাল ১০টার মধ্যে থানায়
এসে আমার কাছে স্যারেন্ডার করে যেন, নইলে...
-আপনি আমাকে
ফোন করেন কেন?
-স্বর্ণাভ
কোথায় লুকিয়ে আছে আপনি জানেন। পুলিশের সাথে সহযোগিতা করুন, নইলে...
-নইলে?
-আপনাকে
আ্যরেস্ট করা হতে পারে, তদন্তে অসহযোগিতা
করবার জন্য।
মিডিয়ার সামনে কালোকাপড়ে মুখ
আড়াল করে এক মহিলা বিবৃতি দিয়েছে,
-বিশিষ্ট শিক্ষক নেতা স্বর্ণাভ ব্যানার্জী বিয়ে করবার
প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুবছর ধরে আমাকে ধর্ষণ করেছে, এখন বিয়ের কথা বললে খুনের হুমকি দিচ্ছে।
-মলি আমি সবটাই জানতে পেরেছি। গা ঢাকা দেওয়া অবস্থাতে
স্বর্ণাভ জাল অনেকটাই গুটিয়ে এনেছে। কাল-পরশুর মধ্যেই হাইকোর্ট থেকে আ্যন্টিসিপেটরি
বেল পেয়ে যাবে। রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা কয়েকজন তোলাবাজ, মিডিয়ার নীচুতলা (ফিল্ড লেভেলর) কেউ কেউ, দুজন লোয়ার কোর্টের উকিল আর গোটা চারেক নষ্ট মেয়ে মিলে
একটা চক্র। ইন্সপেকটর ঘোষাল স্কেপ গোট,
সবটাই
জানে তবুও... টিমটার দুটো টার্গেট, সম্মানীয় ধনী লোকদের
হানিট্র্যাপে ফেলে লক্ষ লক্ষ টাকা আদায়ের ব্ল্যাকমেল, তোলাবাজির নয়া তারিকা, আর প্রতিপক্ষ বা একই দলের অন্য গোষ্ঠীর পলিটিক্যাল পার্সনদের ক্যারেক্টার অ্যাসাসিনেশন।
এই টিমের ইম্পরট্যান্ট পার্টনার হলো মিডিয়া, উপঢৌকন আর অন্যায় সুবিধা লাভের জন্য দালালের ভূমিকা নিয়ে
সত্য আড়াল করতে বিকল্প বা কল্পিত সত্য নির্মাণের মতো হীনকাজে লিপ্ত হয়েছে।
সব শুনে একটা দীর্ঘশ্বাস
বেরিয়ে এলো মলির বুকের ভিতর থেকে, ফিরে এলে এবার গঙ্গা স্নান
করিয়ে ঘরে ঢোকাব, আর যদি পার্টিমুখো
হয়, আমি বাড়ি ছেড়ে চলে যাব। মলির
ঘরের চার দেওয়ালে আতঙ্কের আপাত অদৃশ্য কালো ছোপগুলো আস্তে আস্তে হালকা হতে শুরু
করেছে।
~~000~~
No comments:
Post a Comment