বাতায়ন/আতঙ্ক/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | গল্পাণু
জয়নাল আবেদিন
হাড়িকাঠ
আতঙ্ক | গল্পাণু
জয়নাল আবেদিন
"তোমার সঙ্গে মেলামেশা। বিয়ের পাকা কথা হওয়াই কাল হলো আমার ছেলের জীবনে। সব শেষ হয়ে গেল আমার। তুমি একটা অপয়া। আমার পরিবারটা শেষ করে দিলে..."
আঁচল মুখে সংসারের কাজ করে। রান্নাবান্না, ঘরদোর সাফ, খাওয়াদাওয়া। এভাবে কতদিন বুকে পাথর চেপে থাকবে স্বরূপা। স্বাভাবিক ছন্দে সকলকে ফিরিয়ে আনতে হবে। বাবা সেদিন অফিস থেকে ফিরে বলছিল মাকে,
-আমিও ভাবি এই কথাটাই কিন্তু বাস্তব বড় কঠিন। ইচ্ছে থাকলেও সবসময় হয়ে ওঠে না। মোহরের মুখের দিকে তাকাতে পারি না। মেয়েটা বোবা কান্নায় আচ্ছন্ন হয়ে থাকে। কোন পরামর্শই ওর জন্য যথেষ্ট নয়।
মায়ের মুখে বাস্তব ছবি।
-কিন্তু সব কিছুকেই বাস্তবায়িত করা আমাদেরই দায়িত্ব। আমরা বাবা-মা। মেয়েদের বুক ফাটলেও মুখ ফোটে না। সব কষ্ট শেয়ার করা যায় না। সব কষ্ট কান্না দিয়ে মোছা যাবেও না। সময়ের অপেক্ষায় থাকতে হবে।
মায়ের মুখে লাখ টাকার স্বীকারোক্তি।
-দিদি, ঘরে আয়।
রাজন্যার ডাক। একইরকম দাঁড়িয়ে থাকা মোহরের হাতটা ধরে রাজন্যা। কেমন চমকে ওঠে সে।
-চল, চা খাব। ঘরে মা চা রেখে গেছে।
-চা খাবো না।
ম্লান মুখে ক্ষীণ কণ্ঠস্বর।
-চল-তো।
হাত ধরে টেনে ঘরে নিয়ে আসে দিদিকে। রাজন্যার জোরাজুরিতে একটা বিস্কুট-সহ চা খেল মোহর।
-নিজেকে এভাবে কেন শাস্তি দিচ্ছিস মোহর? ভবিতব্য কারো হাতে থাকে না।
-আকাশের অ্যাকসিডেন্ট। মৃত্যু। বিধাতার দেওয়া কপালের লিখন। সেটাই ঘটেছে। মানুষের ইচ্ছেয় হয়নি।
-দিদি, তুই আকাশদাকে ভালবাসতিস। বিয়ের কথা পাকা হয়েও ছিল। কিন্তু তার আগেই অঘটন। কারো কিছু করার নেই এতে।
রাজন্যা দিদিকে আশ্বস্ত করতে চায়।
-আমার কিছু ভাল লাগছে না। এই বাস্তবটাকে মেনে নিতে পারছি না। সব থেকে কষ্ট লাগছে, আমার ভাবীশাশুড়ি ফোন করেছিল।
-তোমার সঙ্গে মেলামেশা। বিয়ের পাকা কথা হওয়াই কাল হলো আমার ছেলের জীবনে। সব শেষ হয়ে গেল আমার। তুমি একটা অপয়া। আমার পরিবারটা শেষ করে দিলে...
~~000~~

No comments:
Post a Comment