বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— তুলে ধরো প্রাণপণে নৈবেদ্যের থালা…
কবি— রতনলাল আচার্য্য
পর্যালোচক— প্রদীপ কুমার দে
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— তুলে ধরো প্রাণপণে নৈবেদ্যের থালা…
কবি— রতনলাল আচার্য্য
পর্যালোচক— প্রদীপ কুমার দে
"এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু সময়ের কবিতা। যেখানে ভক্তি (নৈবেদ্যের থালা) আছে কিন্তু অর্ঘ্য (লালজবা) নেই। প্রেমের বদলে যেখানে ক্লান্তি আর লালসার বদলে যেখানে বৈরাগ্য মুখ্য হয়ে উঠেছে।"
নিদেনপক্ষে সূর্যালোকের প্রহরীরাও ডুবে গেছে গাঢ় তমসার জালে
আগুনের লেলিহান শিখা এখন জ্বালা ধরায় না পতঙ্গপরাগী ভ্রমরের গৈরিক মনে
কালকে নিথর করে দেয় রমণক্লান্ত একজোড়া রাজহাঁস!
ওদের চোখেও তৃপ্তির সাধ নেই মননে বৈরাগ্য নিরন্তর…
জীবন পাঠশালায় এবার নেবে ওরা বানপ্রস্থের পাঠ।
শব্দ চয়ন: ‘রুদ্রযজ্ঞ’, ‘গৈরিক’, ‘বিবর’, ‘বানপ্রস্থ’—তৎসম শব্দের সার্থক ব্যবহার কবিতাটিতে একটি ধ্রুপদী এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ আবহ তৈরি করেছে।
আবেগের তীব্রতা: প্রথম চরণের আহ্বানের সাথে পরবর্তী পঙ্ক্তিগুলোর বৈপরীত্য (যেমন: লালজবা উৎসর্গ না করা বা তৃপ্তির অভাব) একটি গুমোট হাহাকারকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
দার্শনিক ছোঁয়া: শেষ দিকে ‘জীবন পাঠশালায় বানপ্রস্থের পাঠ’ নেওয়ার কথা বলে কবি জাগতিক ক্লান্তি থেকে এক ধরণের চূড়ান্ত মুক্তির বা বৈরাগ্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা কবিতাটিকে গভীরতা দিয়েছে।
অতিরিক্ত বিষণ্ণতা: পুরো কবিতাটি জুড়েই এক ধরণের চরম নৈরাশ্য কাজ করছে। ‘শিহরণ’, ‘নিথর’, ‘তমসা’—এই শব্দগুলোর ঘনঘটা অনেক সময় কবিতার মূল সুরকে একঘেয়ে করে তুলতে পারে।
তবে কবির জন্য রইল শ্রদ্ধা।

No comments:
Post a Comment