প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

চৈতি হাওয়া—নববর্ষ

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ , ১৪৩৩ চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | সম্পাদকীয়   চৈতি হাওয়া—নববর্ষ "দুগ্ধপোষ্য...

Wednesday, April 8, 2026

কবিতা— তুলে ধরো প্রাণপণে নৈবেদ্যের থালা… | কবি— রতনলাল আচার্য্য | পর্যালোচক— প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— তুলে ধরো প্রাণপণে নৈবেদ্যের থালা…
কবি— রতনলাল আচার্য্য
পর্যালোচক— প্রদীপ কুমার দে

"এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু সময়ের কবিতা। যেখানে ভক্তি (নৈবেদ্যের থালা) আছে কিন্তু অর্ঘ্য (লালজবা) নেই। প্রেমের বদলে যেখানে ক্লান্তি আর লালসার বদলে যেখানে বৈরাগ্য মুখ্য হয়ে উঠেছে।"

 
দুর্বিনীত আহাজারিরা রুদ্রযজ্ঞে উৎসর্গ করেনি একটাও লালজবা
নিদেনপক্ষে সূর্যালোকের প্রহরীরাও ডুবে গেছে গাঢ় তমসার জালে
আগুনের লেলিহান শিখা এখন জ্বালা ধরায় না পতঙ্গপরাগী ভ্রমরের গৈরিক মনে
 
অজানা শিহরণে বিবর ছেড়ে পালাতে চায় বাস্তুভিটার সাপ!
কালকে নিথর করে দেয় রমণক্লান্ত একজোড়া রাজহাঁস!
ওদের চোখেও তৃপ্তির সাধ নেই মননে বৈরাগ্য নিরন্তর…
জীবন পাঠশালায় এবার নেবে ওরা বানপ্রস্থের পাঠ।
 
 
এই কবিতাটি বেশ শক্তিশালী শব্দচয়ন এবং গম্ভীর রূপক দিয়ে সাজানো। এখানে মূলত ধ্বংস, অবক্ষয় এবং বৈরাগ্যের এক অন্ধকার চিত্র ফুটে উঠেছে।
 
ইতিবাচক দিক (সবলতা)
চিত্রকল্প (Imagery): কবিতাটিতে বেশ কিছু চমৎকার চিত্রকল্প রয়েছে। বিশেষ করে ‘সূর্যালোকের প্রহরীদের তমসায় ডুবে যাওয়া’ বা ‘পতঙ্গপরাগী ভ্রমরের গৈরিক মন’—এই অভিব্যক্তিগুলো পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে।
শব্দ চয়ন: ‘রুদ্রযজ্ঞ’, ‘গৈরিক’, ‘বিবর’, ‘বানপ্রস্থ’—তৎসম শব্দের সার্থক ব্যবহার কবিতাটিতে একটি ধ্রুপদী এবং গাম্ভীর্যপূর্ণ আবহ তৈরি করেছে।
আবেগের তীব্রতা: প্রথম চরণের আহ্বানের সাথে পরবর্তী পঙ্‌ক্তিগুলোর বৈপরীত্য (যেমন: লালজবা উৎসর্গ না করা বা তৃপ্তির অভাব) একটি গুমোট হাহাকারকে সার্থকভাবে ফুটিয়ে তুলেছে।
দার্শনিক ছোঁয়া: শেষ দিকে ‘জীবন পাঠশালায় বানপ্রস্থের পাঠ’ নেওয়ার কথা বলে কবি জাগতিক ক্লান্তি থেকে এক ধরণের চূড়ান্ত মুক্তির বা বৈরাগ্যের ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা কবিতাটিকে গভীরতা দিয়েছে।
 
নেতিবাচক দিক বা উন্নয়নের জায়গা (দুর্বলতা)
পঙক্তির পারম্পর্য: ‘বাস্তুভিটার সাপ’ পালানো এবং ‘রমণক্লান্ত রাজহাঁস’—এই দুটি চিত্রের মধ্যে সংযোগ কিছুটা আলগা মনে হতে পারে। রাজহাঁসের সাথে ‘রমণক্লান্ত’ বিশেষণটি এখানে কেন ব্যবহার করা হলো বা তা পরবর্তী বৈরাগ্যের সাথে কতটা যুৎসই, তা আরও স্পষ্ট হতে পারত।
অতিরিক্ত বিষণ্ণতা: পুরো কবিতাটি জুড়েই এক ধরণের চরম নৈরাশ্য কাজ করছে। ‘শিহরণ’, ‘নিথর’, ‘তমসা’—এই শব্দগুলোর ঘনঘটা অনেক সময় কবিতার মূল সুরকে একঘেয়ে করে তুলতে পারে।
 
ছন্দের দোলা
কবিতাটি গদ্যছন্দে লেখা হলেও কিছু জায়গায় শব্দের ভার বেশি হওয়ায় পড়ার গতি সামান্য হোঁচট খায়। উদাহরণস্বরূপ, তৃতীয় পঙ্‌ক্তিটি অনেক দীর্ঘ, যা তার আগের বা পরের পঙ্‌ক্তির তুলনায় কিছুটা অসামঞ্জস্যপূর্ণ শোনায়।
 
সামগ্রিক মূল্যায়ন
এটি একটি ক্ষয়িষ্ণু সময়ের কবিতা। যেখানে ভক্তি (নৈবেদ্যের থালা) আছে কিন্তু অর্ঘ্য (লালজবা) নেই। প্রেমের বদলে যেখানে ক্লান্তি আর লালসার বদলে যেখানে বৈরাগ্য মুখ্য হয়ে উঠেছে। সামান্য কিছু জায়গায় শব্দের অতি-প্রয়োগ কমিয়ে আনলে কবিতাটি আরও সংহত ও ধারালো হতো।
তবে কবির জন্য রইল শ্রদ্ধা
 

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)