বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম
সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— সীমানা
কবি— দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
পর্যালোচক— দীপক বেরা
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— সীমানা
কবি— দেবাশীষ মুখোপাধ্যায়
পর্যালোচক— দীপক বেরা
"বর্ণনাভঙ্গিটি শক্তিশালী। একের পর এক বাধা টপকানোর চিত্রকল্পটি পাঠককে এক ধরনের রোমাঞ্চ ও উদ্দীপনা এনে দেয়।"
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
একে একে টপকে চলেছে সব
নদী পাহাড় সমুদ্র মানুষ
ভীষণ উদ্দীপনায় জাগ্রত চেতন..."
এবার নিজের সামনে এসে দাঁড়াল
নিজেকে আর টপকাতে পারল না"
মানুষ যখন নিজেকেই অতিক্রম করতে চায় (অর্থাৎ নিজের চেনা গণ্ডি বা দোষ-ত্রুটি থেকে বের হতে চায়), তখন সে বুঝতে পারে যে তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী সে নিজেই। নিজেকে টপকাতে না পারার অর্থ হলো— মানুষের সীমাবদ্ধতা এবং নিজের 'অহং'-এর কাছে পরাজয়। এটাই মনুষ্য জীবনের ব্যর্থতার দর্শন।
কবিতাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিশ্বজয় করা কারুর কাছে খুবই সহজসাধ্য কিংবা কঠিন হলেও তা হয়তো সম্ভব। কিন্তু আত্মজয় বা নিজেকে অতিক্রম করা এক মহত্তম এবং দুঃসাধ্য বা প্রায় অসম্ভব সাধনার ধন।
কবিতাটিতে কবি যে রূপকধর্মী এবং জীবনদর্শনের এক গভীর সত্যকে তুলে ধরেছেন, তা প্রশংসনীয়। বাইরের জগৎ (নদী, পাহাড়, সমুদ্র) জয় করা যতটা সহজ, নিজের অহং বা নিজেকে অতিক্রম করা তার চেয়েও কঠিন—এই গভীর দার্শনিক সত্যটি এখানে চমৎকারভাবে ফুটে উঠেছে। এটিই কবিতাটির সবল দিক বা মূল শক্তি এবং উপসংহার।
তা ছাড়া কবিতায় পরিলক্ষিত হয়েছে খুব সহজ ভাষা এবং গতি। অর্থাৎ কবিতার শব্দচয়ন খুব সাধারণ, কিন্তু বর্ণনাভঙ্গিটি শক্তিশালী। একের পর এক বাধা টপকানোর চিত্রকল্পটি পাঠককে এক ধরনের রোমাঞ্চ ও উদ্দীপনা এনে দেয়।
কবিতার শেষে একটি আকস্মিক মোচড় বা twist পরিলক্ষিত হয়েছে—'নিজেকে টপকাতে না-পারা'র যে অসহায়ত্ব ফুটে উঠেছে, তা পাঠককে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে। এটি কবিতার নাটকীয়তা বাড়িয়ে দিয়েছে নিঃসন্দেহে।
কবিতাটি অনেকটা গদ্যধর্মী। প্রথম দিকে বর্ণনাগুলো খুব রৈখিক, যা কিছুটা একঘেয়ে মনে হয়েছে।
'নদী-পাহাড়-সমুদ্র'—এই রূপকগুলো বাংলা কবিতায় খুব সাধারণ বা বহুল ব্যবহৃত। নতুন কোনো চিত্রকল্প ব্যবহার করলে কবিতাটি আরও অনন্য হতো।
লোকটা কেন নিজেকে টপকাতে চাইছে বা 'নিজেকে টপকানো' বলতে কবি ঠিক কী বুঝিয়েছেন (অহংকার জয় করা নাকি নিজের সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করা?) তা কিছুটা অস্পষ্ট। কবিতার শেষে আরও একটি স্তবক সংযুক্ত করে কবিতার অস্পষ্ট ভাবটিতে পূর্ণতা আনা যেত এবং কবিতাটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠত।

No comments:
Post a Comment