বাতায়ন/আতঙ্ক/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | পর্যালোচনা
কবিতা— শব্দভ্রমর
কবি— সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়
পর্যালোচক— তৈমুর খান
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
আতঙ্ক | পর্যালোচনা
কবিতা— শব্দভ্রমর
কবি— সুশান্ত গঙ্গোপাধ্যায়
পর্যালোচক— তৈমুর খান
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
"ভ্রমর যেমন ফুলের মধু আহরণ করে গুঞ্জন করে বেড়ায়, কবি বা স্রষ্টাও তেমনি জগতের অভিজ্ঞতা থেকে শব্দ আহরণ করেন। শরীর ঘুমিয়ে পড়লেও কবির সৃষ্টি বা 'শব্দভ্রমর' জেগে থাকে।"
কবিতার শুরুতেই কবি 'তুমুল অশান্তি' এবং 'অভিমান' দিয়ে একটি মানসিক অস্থিরতার মানচিত্র এঁকেছেন। এখানে আগুন কোনো ধ্বংসের প্রতীক নয়, বরং তা বেঁচে থাকার প্রধান উপজীব্য।
"আগুন ভিক্ষা, আগুন অন্ন": এই পঙ্ক্তিটি অত্যন্ত শক্তিশালী। এখানে মানুষের শরীরের ক্ষুধা এবং মনের দহনের মধ্যকার পার্থক্য মুছে গেছে। ক্লিষ্ট বা ক্লান্ত দেহের জন্য আগুনই যেন একমাত্র প্রাপ্য বা পরিণতি।
কবিতার দ্বিতীয় স্তবকে কবি এক পরম শান্তির কথা বলেছেন। মৃত্যু বা গভীর নিদ্রার মাধ্যমে শরীরের সমস্ত জাগতিক ক্লান্তি মুছে যায়।
"অনন্তের পারে ঘুমায় শরীর": রৌদ্র, বৃষ্টি বা আঁধার—যা জীবনের কঠিন বাস্তবের প্রতীক—তা থেকে মুক্তি পেয়ে শরীর যখন অসীমে বিলীন হয়, তখন আর কোনো অশান্তি অবশিষ্ট থাকে না। প্রকৃতি এখানে এক শান্ত শীতল প্রলেপ হয়ে ধরা দিয়েছে।
কবিতার সবচেয়ে চমৎকার অংশ হলো এর শেষ দুই লাইন। দেহ নশ্বর, পৃথিবী পরিবর্তনশীল, কিন্তু শব্দ বা সৃষ্টি অবিনশ্বর।
শব্দভ্রমর: ভ্রমর যেমন ফুলের মধু আহরণ করে গুঞ্জন করে বেড়ায়, কবি বা স্রষ্টাও তেমনি জগতের অভিজ্ঞতা থেকে শব্দ আহরণ করেন। শরীর ঘুমিয়ে পড়লেও কবির সৃষ্টি বা 'শব্দভ্রমর' জেগে থাকে।
"শব্দের মাঝে ঘুমায় অপার সৃষ্টি": এটি একটি দার্শনিক সত্য। মহাবিশ্বের যাবতীয় আবেগ, অনুভূতি এবং ইতিহাস শব্দের আধারে বন্দি থাকে। স্রষ্টা চলে গেলেও তার রেখে যাওয়া শব্দের ভেতর দিয়ে পুরো পৃথিবী পুনরায় জন্ম নিতে পারে।
'শব্দভ্রমর' কবিতাটি জীবন-মৃত্যুর এক সন্ধিক্ষণের কাব্য। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, মানুষের দেহ নশ্বর এবং তা অশান্তি ও কষ্টে জর্জরিত হতে পারে, কিন্তু মানুষের সৃজনশীল চেতনা বা 'শব্দ' সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে টিকে থাকে।
নশ্বর দেহের অবসান ও অবিনশ্বর শব্দের জাগরণই এর মূ্ল সুর।

No comments:
Post a Comment