বাতায়ন/আতঙ্ক/কবিতা/৪র্থ বর্ষ/২য় সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | কবিতা
দীপক বেরা
অদৃশ্য
হাত ও যুদ্ধ-যুদ্ধ আতঙ্ক
দেয়ালে টাঙানো পৃথিবীর
মানচিত্রটায় কে যেন অদ্ভুত কিছু আঁচড় দিয়ে চলে গেছে...
মা বলছে, ওটা বিড়ালের কাণ্ড হতে পারে
বাবা বলছে, বিড়ালটাকে তো আমরা কেউ দেখিনি, আসলে এসব ঈশ্বরের দুর্বোধ্য আঁচড়!
টিভিতে নিউজ ভেসে আসছে—
ফিলিস্তিনি এক পেইন্টারের বাম হাতে আঁকা একটি তৈলচিত্র নাকি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সাম্প্রতিক যুদ্ধে যার ডান হাতটা খোয়া গিয়েছে
ক্যানভাসে দেখা যাচ্ছে—
প্রাচ্যদেশের পাহাড়ের ঢালে একটি ফুটন্ত কড়াই
উনুনে ফিলিস্তিনি, ইরানিদের চোখের ক্রোধ জ্বলছে
চারপাশে ছড়ানো ছেটানো—ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া স্প্লিনটার্সের অবশেষ ধ্বংসস্তূপের মাঝে—
মণিবন্ধ ভেদ করে একটি তীক্ষ্ণ বর্শামুখ শনির বলয় ছুঁয়ে পৃথিবীর মধ্যমাকে বিদ্ধ করে আছে
তারপর একটা দীর্ঘ সরলরেখা বিস্তৃত হয়ে অসীমের দিকে চলে গেছে...
ছবিটির বিমূর্ত দৃষ্টিভঙ্গি, শিল্পসত্তার অভিমুখ, দৃষ্টিকোণ পৃথিবীব্যাপী মানুষের মনে এক জটিল মনস্তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে—
ওই রেখাটি কি পৃথিবীর লুপ্ত সভ্যতাগুলির ধ্বংসের নিঃশব্দ উচ্চারণ?
নাকি, আগামীর ভয়াবহ পরিণতির দিকে ইঙ্গিতবাহী!
মা বলছে, শুনছি নাকি যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে
বাবা বলছে, যুদ্ধ নয়, বরং বলো বিশ্বযুদ্ধ লেগেছে
দেশে-বিদেশে, সমাজে, অলিগলিতে সংসারে, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের অলিন্দে জান্তব উল্লাস প্রতিধ্বনি ফিরে ফিরে আসে হন্তারকের
যাকে তুমি অপ্সরা জেনে হৃদয়ে রেখেছ, যাকে তুমি রানি কিংবা রাজার আসনে বসিয়েছ
আসলে সে তোমার কফিনের শেষতম পেরেক তোমার অন্ধবিশ্বাসের ভিতর— অবিশ্বাসের গিলোটিন... সাক্ষাৎ মৃত্যু!
সেদিন রাতে মা ও বাবার এইসব কথার ভিতর হঠাৎ বোমার বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠল বাড়িটা
আসলে, সামনেই ভোট উৎসব, বিধানসভা নির্বাচন পাড়ার গলিতে গলিতে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী বাদানুবাদ, হাতাহাতি, মারামারি
কার ভাগে সাইপ্রাস পড়ল? কার ভাগে তিব্বত? কিংবা তুর্কমেনিস্তান?
জনপদ ছিঁড়ে আতঙ্কের এইসব
মুষল পর্ব এখন দুয়ারে উপনীত—ঘটমান, চলমান, আমাদের নিত্য-বর্তমান,
যেন এক
যুদ্ধ-যুদ্ধ খেলা
আঁচড় কাটা পৃথিবীর মানচিত্রটা দেয়াল থেকে হঠাৎ খসখস শব্দে লুটিয়ে পড়ল মেঝের উপর
প্রতিটি ঘটনার পেছনে যেমন কার্যকারণ থাকে যুদ্ধের পেছনেও ঠিক তেমনই— দুরভিসন্ধির একটা অদৃশ্য লম্বা হাত থাকে...
বীভৎস আয়োজনে ধ্বংসের প্রতিটি স্কোয়ারফিটে আজ অসম্ভব সচল, অ্যাক্টিভ মিথোজীবী ভাইরাস
লুপ্ত সভ্যতার জীবাশ্ম ঘেঁটে উঠে আসে অবিকল ইতিহাস, যেন ইতিহাসের পুনরুদ্ধার, পুনরাবৃত্তি
রক্তমাংস ছিঁড়ে টলে ওঠে স্বাভাবিক স্থিতাবস্থা এই সময়ের ভয়াবহ আতঙ্কের বজ্রগর্ভ অন্ধকার থেকে আমি রিস্ক ফ্যাক্টর গুনি...
বন্ধ হয়ে আসা দুচোখে দেখি ধ্বংসের মৈথুনের কী দুরারোগ্য রূপ! মৈথুন চক্রান্তে আজ তুমিও নিরুত্তর?
হে উদাসীন ঈশ্বর...!
আতঙ্ক | কবিতা
দীপক বেরা
মা বলছে, ওটা বিড়ালের কাণ্ড হতে পারে
বাবা বলছে, বিড়ালটাকে তো আমরা কেউ দেখিনি, আসলে এসব ঈশ্বরের দুর্বোধ্য আঁচড়!
ফিলিস্তিনি এক পেইন্টারের বাম হাতে আঁকা একটি তৈলচিত্র নাকি সম্প্রতি ভাইরাল হয়েছে সাম্প্রতিক যুদ্ধে যার ডান হাতটা খোয়া গিয়েছে
ক্যানভাসে দেখা যাচ্ছে—
প্রাচ্যদেশের পাহাড়ের ঢালে একটি ফুটন্ত কড়াই
উনুনে ফিলিস্তিনি, ইরানিদের চোখের ক্রোধ জ্বলছে
চারপাশে ছড়ানো ছেটানো—ফেটে চৌচির হয়ে যাওয়া স্প্লিনটার্সের অবশেষ ধ্বংসস্তূপের মাঝে—
মণিবন্ধ ভেদ করে একটি তীক্ষ্ণ বর্শামুখ শনির বলয় ছুঁয়ে পৃথিবীর মধ্যমাকে বিদ্ধ করে আছে
তারপর একটা দীর্ঘ সরলরেখা বিস্তৃত হয়ে অসীমের দিকে চলে গেছে...
ছবিটির বিমূর্ত দৃষ্টিভঙ্গি, শিল্পসত্তার অভিমুখ, দৃষ্টিকোণ পৃথিবীব্যাপী মানুষের মনে এক জটিল মনস্তত্ত্বের জন্ম দিয়েছে—
ওই রেখাটি কি পৃথিবীর লুপ্ত সভ্যতাগুলির ধ্বংসের নিঃশব্দ উচ্চারণ?
বাবা বলছে, যুদ্ধ নয়, বরং বলো বিশ্বযুদ্ধ লেগেছে
দেশে-বিদেশে, সমাজে, অলিগলিতে সংসারে, প্রতিটি মানুষের হৃদয়ের অলিন্দে জান্তব উল্লাস প্রতিধ্বনি ফিরে ফিরে আসে হন্তারকের
যাকে তুমি অপ্সরা জেনে হৃদয়ে রেখেছ, যাকে তুমি রানি কিংবা রাজার আসনে বসিয়েছ
আসলে সে তোমার কফিনের শেষতম পেরেক তোমার অন্ধবিশ্বাসের ভিতর— অবিশ্বাসের গিলোটিন... সাক্ষাৎ মৃত্যু!
সেদিন রাতে মা ও বাবার এইসব কথার ভিতর হঠাৎ বোমার বিকট আওয়াজে কেঁপে উঠল বাড়িটা
আসলে, সামনেই ভোট উৎসব, বিধানসভা নির্বাচন পাড়ার গলিতে গলিতে দেয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে শাসক-বিরোধী বাদানুবাদ, হাতাহাতি, মারামারি
কার ভাগে সাইপ্রাস পড়ল? কার ভাগে তিব্বত? কিংবা তুর্কমেনিস্তান?
আঁচড় কাটা পৃথিবীর মানচিত্রটা দেয়াল থেকে হঠাৎ খসখস শব্দে লুটিয়ে পড়ল মেঝের উপর
প্রতিটি ঘটনার পেছনে যেমন কার্যকারণ থাকে যুদ্ধের পেছনেও ঠিক তেমনই— দুরভিসন্ধির একটা অদৃশ্য লম্বা হাত থাকে...
বীভৎস আয়োজনে ধ্বংসের প্রতিটি স্কোয়ারফিটে আজ অসম্ভব সচল, অ্যাক্টিভ মিথোজীবী ভাইরাস
লুপ্ত সভ্যতার জীবাশ্ম ঘেঁটে উঠে আসে অবিকল ইতিহাস, যেন ইতিহাসের পুনরুদ্ধার, পুনরাবৃত্তি
রক্তমাংস ছিঁড়ে টলে ওঠে স্বাভাবিক স্থিতাবস্থা এই সময়ের ভয়াবহ আতঙ্কের বজ্রগর্ভ অন্ধকার থেকে আমি রিস্ক ফ্যাক্টর গুনি...
বন্ধ হয়ে আসা দুচোখে দেখি ধ্বংসের মৈথুনের কী দুরারোগ্য রূপ! মৈথুন চক্রান্তে আজ তুমিও নিরুত্তর?

No comments:
Post a Comment