প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

চৈতি হাওয়া—নববর্ষ

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ , ১৪৩৩ চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | সম্পাদকীয়   চৈতি হাওয়া—নববর্ষ "দুগ্ধপোষ্য...

Wednesday, April 8, 2026

কবিতা— তপস্বীর তৃষ্ণা মিটুক | কবি— অজয় দেবনাথ | পর্যালোচক— কৌশিক চক্রবর্তী

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— তপস্বীর তৃষ্ণা মিটুক
কবি— অজয় দেবনাথ
পর্যালোচক— কৌশিক চক্রবর্তী

"প্রকৃত অর্থে কবিতা বলতে যে ভাবমধুর কাব্য-সান্নিধ্যকে বোঝায়তা যে কোনো সাহিত্যের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।"


[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
 
আমাকে ছুঁয়েছ তুমি সে-ভাবেই
যে-ভাবে চাঁদ ছুঁয়ে যায় প্রেমিক হৃদয়
 
আমি ছুঁয়েছি তোমাকে দীর্ঘ তপস্যায়
একলব্যের মতো নিজেকে অতিক্রম করার সাধনায়
যদিও কেটেছে মাঝে অনেক সময়, হয়তো সকাল থেকে সন্ধে
                                 হয়তো দ্বাপর থেকে কলি
আজ কী শুধু বাঁশি বাজালেই চলে…
 
তখন ছিল অন্যদিন, অন্যরকম জীবন
গোঠের রাখাল চরিয়ে ধেনু বাঁশিতে তুলত সুর…
                                    বাঁশির সুরে, কলকাকলিতে ভেসে যেত মন
গোপিনীরা আসত ছুটে ফেলে সব কাজ
আবারও ব্যর্থ হত রাধিকার ছদ্ম-সংসার
কেটে যেত দিন, কেটে যেত মোহময়ী চাঁদনি রাত
হয়তো ময়ূরের ডাকে ভোর হত
হয়তো তারপরেও থাকত প্রতীক্ষা সূর্য ডোবার…
 
আজ স্ফটিক জলের অপেক্ষায় চাতকের মতো আনচান করে প্রাণ
দ্বিধা জাগে, সত্যি তুমি ছুঁয়েছিলে পর্বতচূড়া, বন-প্রান্তর, উদ্দাম সাগর
যে-ভাবে চাঁদ অপরূপ মায়ায় চুঁইয়ে চুঁইয়ে স্পর্শ করে যায়
                                    এক দিগন্ত থেকে অন্য দিগন্তে…
যে-ভাবে অনায়াসে নদী মিশে যায় মোহনায়
যদি সত্যিই তেমন করে ছুঁয়ে থাক, তবে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ো
তৃষ্ণার্ত তপস্বী চাতকের তৃষ্ণা মেটাও…
 
 
যেভাবে তৃষ্ণা থেকে দাবি নিয়ে হাজির হয় প্রেমের স্বরূপ, সেভাবেই যেন ধীরে ধীরে আশ্রয় খোঁজে একনিষ্ঠ প্রেমিক হৃদয়। কবিতাটির আগাগোড়া সেই প্রেমিকের আর্তি ছড়িয়ে গেছে প্রতি চরণে। কবি এখানে উপমাভিত্তিক কিছু চরণের মাধ্যমে প্রেমের কেন্দ্রবিন্দুতে কিছুটা ভাবগম্ভীর ওজন প্রদান করেছেন। যেমন - "আজ স্ফটিক জলের অপেক্ষায় চাতকের মতো আনচান করে প্রাণ" - তুলনামূলক ক্ষেত্রগুলি কবিতার এক-একটি অনুভব বলে বিবেচনা করা হয়। প্রকৃত অর্থে কবিতা বলতে যে ভাবমধুর কাব্য-সান্নিধ্যকে বোঝায়, তা যে কোনো সাহিত্যের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। যেমন এখানে -
 
"হয়তো ময়ূরের ডাকে ভোর হত
হয়তো তারপরেও থাকত প্রতীক্ষা সূর্য ডোবার…"
 
এই পঙ্‌ক্তিটির কথা বলতে হয়। এখানে আশায় বুক বেঁধে কবি নিজেকে লালন করেছেন এবং তাঁর প্রেমিকসত্ত্বাকে আগাগোড়া প্রশ্রয় দান করেছেন। এই প্রশ্রয়টুকুই কবিতাকে জমি দিতে পারে।
আবার উপমার কথা বলতে গেলে চাঁদের মধ্যে "অপরূপ মায়ায়" কবি খুঁজে দেখেছেন সেই হারানো সত্ত্বাটুকুই। বৃন্দাবনের মাটিতে যেভাবে গোপিনীদের প্রশ্রয় গোপনে রাধাকৃষ্ণের প্রকৃত প্রেম স্বরূপের গূঢ় তত্ত্বকথা বলে, কবি নিজের পার্থিব অপেক্ষার মধ্যে সেই অপার্থিব উপাদান যুক্ত করেছেন। এখানেই হয়তো কবিতার সার্থকতা। সামান্য কয়েক পঙ্‌ক্তিতে যেখানে একটি সুনির্দিষ্ট জমি নির্মাণ করে তার চারপাশে জাফরির দেয়াল বুনে দেওয়া যায়।
 
"হয়তো দ্বাপর থেকে কলি
আজ কী শুধু বাঁশি বাজালেই চলে…"
 
এই প্রশ্নের মাধ্যমে যে সময়কালকে মাপা হয়েছে, তা যেন কালচক্রকেই সূচিত করে। দ্বাপর থেকে কলির মধ্যে যে সময় প্রতীক্ষা, তাতেও প্রেমের স্বরূপ কোনভাবেই পরিবর্তন হয় না প্রেমিক চেতনায়। আর সেই চেতনায় জাগ্রত কবি অপেক্ষা করতে রাজি, শুধু সমস্ত অপেক্ষার অবসান হলে তাঁর একান্ত আর্তি - "যদি সত্যিই তেমন করে ছুঁয়ে থাক, তবে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ো"।
 
আগাগোড়া প্রেমের কবিতা হিসাবে পঙ্‌ক্তিগুলি সেই অনুভবকেই লালন করে গেছে। "তৃষ্ণার্ত" কবির এখানেই প্রেমিক-হৃদয়ের প্রকাশ, যা পাঠকমধ্যে খুব সহজেই আবেদন রাখতে সক্ষম৷
 

1 comment:

  1. আজ নয় গুনগুন গুঞ্জন গান আমার

    ReplyDelete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)