বাতায়ন/চৈতি
হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— তপস্বীর তৃষ্ণা মিটুক
কবি— অজয় দেবনাথ
পর্যালোচক— কৌশিক চক্রবর্তী
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— তপস্বীর তৃষ্ণা মিটুক
কবি— অজয় দেবনাথ
"প্রকৃত অর্থে কবিতা বলতে যে ভাবমধুর কাব্য-সান্নিধ্যকে বোঝায়, তা যে কোনো সাহিত্যের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে।"
[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
যে-ভাবে চাঁদ ছুঁয়ে যায় প্রেমিক হৃদয়
আমি ছুঁয়েছি তোমাকে দীর্ঘ তপস্যায়
একলব্যের মতো নিজেকে অতিক্রম করার সাধনায়
যদিও কেটেছে মাঝে অনেক সময়, হয়তো সকাল থেকে সন্ধে
…হয়তো দ্বাপর থেকে কলি
আজ কী শুধু বাঁশি বাজালেই চলে…
তখন ছিল অন্যদিন, অন্যরকম জীবন
গোঠের রাখাল চরিয়ে ধেনু বাঁশিতে তুলত সুর…
বাঁশির সুরে, কলকাকলিতে ভেসে যেত মন
গোপিনীরা আসত ছুটে ফেলে সব কাজ
আবারও ব্যর্থ হত রাধিকার ছদ্ম-সংসার
কেটে যেত দিন, কেটে যেত মোহময়ী চাঁদনি রাত
হয়তো ময়ূরের ডাকে ভোর হত
হয়তো তারপরেও থাকত প্রতীক্ষা সূর্য ডোবার…
আজ স্ফটিক জলের অপেক্ষায় চাতকের মতো আনচান করে প্রাণ
দ্বিধা জাগে, সত্যি তুমি ছুঁয়েছিলে পর্বতচূড়া, বন-প্রান্তর, উদ্দাম সাগর
যে-ভাবে চাঁদ অপরূপ মায়ায় চুঁইয়ে চুঁইয়ে স্পর্শ করে যায়
এক দিগন্ত থেকে অন্য দিগন্তে…
যে-ভাবে অনায়াসে নদী মিশে যায় মোহনায়
যদি সত্যিই তেমন করে ছুঁয়ে থাক, তবে বৃষ্টি হয়ে ঝরে পড়ো
তৃষ্ণার্ত তপস্বী চাতকের তৃষ্ণা মেটাও…
হয়তো তারপরেও থাকত প্রতীক্ষা সূর্য ডোবার…"
আবার উপমার কথা বলতে গেলে চাঁদের মধ্যে "অপরূপ মায়ায়" কবি খুঁজে দেখেছেন সেই হারানো সত্ত্বাটুকুই। বৃন্দাবনের মাটিতে যেভাবে গোপিনীদের প্রশ্রয় গোপনে রাধাকৃষ্ণের প্রকৃত প্রেম স্বরূপের গূঢ় তত্ত্বকথা বলে, কবি নিজের পার্থিব অপেক্ষার মধ্যে সেই অপার্থিব উপাদান যুক্ত করেছেন। এখানেই হয়তো কবিতার সার্থকতা। সামান্য কয়েক পঙ্ক্তিতে যেখানে একটি সুনির্দিষ্ট জমি নির্মাণ করে তার চারপাশে জাফরির দেয়াল বুনে দেওয়া যায়।
আজ কী শুধু বাঁশি বাজালেই চলে…"

আজ নয় গুনগুন গুঞ্জন গান আমার
ReplyDelete