প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Sunday, April 26, 2026

সুপ্ত দানব | সাথী মুখোপাধ্যায়

বাতায়ন/আতঙ্ক/প্রবন্ধ/৪র্থ বর্ষ/২য় সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | প্রবন্ধ
সাথী মুখোপাধ্যায়
 
সুপ্ত দানব

"এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনীত সেই কালজয়ী চলচ্চিত্র আতঙ্কর কথা। সেখানে আমরা দেখেছি একজন আদর্শবান মাষ্টারমশাইযাকে বারবার আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।"

 
বাতায়ণ অনলাইন সাহিত্য পত্রিকার এইবারের বিষয় ছিল 'আতঙ্ক'। বিষয়টা আমার কাছে বেশ ইন্টারেস্টিং মনে হয়েছিল। কিছু অনুভূতি মনের মাঝে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল। তাই ভাবলাম লিখে ফেলি দুই-এক কলম।
 
বিষয়টা যখন 'আতঙ্ক' তখন আমার মনে হয় আতঙ্ক বা ভয় নামক অনুভূতিটির নির্দিষ্ট কোন নিয়ম, ব্যাখা কিংবা সীমারেখা নেই। যে-কোনো সময় যে-কোনো পরিস্থিতিতে আতঙ্ক তৈরি হতে পারে। আবার এটাও ঠিক যে মানুষভেদে আতঙ্কের মাপকাঠিও বদলে যায়। কে কীসে আতঙ্কিত হবে সেটাও বলা যায় না। যেমন অনেক মানুষ আছেন যারা খুব সামান্য সামান্য বিষয়ে ভয় পান, আঁতকে ওঠেন। উদাহরণ হিসেবে বলা যেতে পারে আরশোলা দেখে ভয়, টিকটিকি দেখে ভয়, অন্ধকারকে ভয় এইরকম আরও অনেক ছোট ছোট বিষয় মানুষকে ভীত করে। আবার সেই ছোট ছোট বিষয়ে ভয় পাওয়া মানুষটাকেই দেখা যায় জীবনের কঠিন সময়ে সমস্ত ঝড়ঝাপটা একার হাতে সামলাছে। শুধু তাই নয়, অন্যের বিপদেও ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ধৈর্য্য ও সাহসিকতার সাথে সবটা মোকাবিলা করছে।
 
এমনও বলা যেতে পারে ভয় থেকে আতঙ্ক হতে পারে আবার ঠিক উল্টোটাও হতে পারে, আতঙ্ক থেকে ভয়। আতঙ্ক এমন একটা মানসিক অবস্থা যা থেকে কোন মানুষই নিরাপদ নন। প্রত্যেকের মনেই কোন-না-কোন বিষয় নিয়ে আতঙ্ক রয়েছে। আমি এমন অনেক মানুষকে জানি যাদের আতঙ্ক মানুষকে নিয়ে। কেন জানেন? খুব সহজ উত্তর। বিশ্বাস, অগাধ বিশ্বাস করে ঠকেছে। সেখান থেকে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তার ফলস্বরূপ তিনি বা তাঁরা এখন আর কোন মানুষকেই বিশ্বাস করতে পারেন না। একে বোধহয় বলা যেতে পারে বিশ্বাসের আতঙ্ক। জন্তুজানোয়ার আঘাত করবে, কামড়াবে আঁচড়াবে সেটা স্বাভাবিক। কিন্তু মানুষ যখন মানুষকে আঘাত করে, অসম্মান করে তখন যে আতঙ্ক তৈরি হয় তার ভার হয়তো সারাজীবন সেই মানুষটাকে বয়ে বেড়াতে হয়। এই প্রসঙ্গে মনে পড়ে সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের অভিনীত সেই কালজয়ী চলচ্চিত্র আতঙ্কর কথা। সেখানে আমরা দেখেছি একজন আদর্শবান মাষ্টারমশাই, যাকে বারবার আতঙ্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।
 
আমি এমন একজন মানুষকে দেখেছি যিনি বাস দেখলে ভয় পান, বাসে করে কোথাও যেতেই চান না। কোন একসময় তার পরিবার, তাদের বন্ধুবান্ধব বাসে করে যাচ্ছিল মন্দারমনি পিকনিক উপলক্ষে। পথে সেই বাসটি একটি মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার মুখে পড়ে, তাতে অনেকেই প্রাণ হারান। সৌভাগ্যবশত সেই ভদ্রলোক প্রাণে বেঁচে যান। কিন্তু দুর্ঘটনা তার মনে এতটাই রেখাপাত করে যে তিনি বাস দেখলেই থরথর করে কাঁপতেন। চোখ বন্ধ করে নিতেন। বহুদিন তার চিকিৎসা হয়, এখন তিনি সুস্থ হলেও বাসের প্রতি তার যে ফোবিয়া সেটা অবচেতন মনে রয়েই গেছে।
 
আতঙ্কের নির্দিষ্ট কোন গণ্ডি নেই। অনেক মানুষ আছেন যারা মনের মধ্যে আতঙ্ক নিয়েই দিন কাটান। যা ধীরে ধীরে অভ্যেসে পরিণত হয়ে যায়।
যদিও আতঙ্ক একটা মানসিক সমস্যা, তবু এই সমস্যা থেকে মুক্তি কী সহজে পাওয়া যায়? মনে হয় পাওয়া যায় না। অনেকে বলবেন, মনোবিদের পরামর্শ নিতে। হ্যাঁ, তা ঠিক। কিন্তু কিছু আতঙ্কের কারণের হদিস মনোবিদও খুঁজে পান না। আতঙ্ক সুপ্তভাবে থেকেই যায় মনের গভীরে। ইচ্ছে করে কেউ আতঙ্কিত হতে চায় না। সময়, পরিস্থিতির সামনে অসহায় হয়ে পড়লেই আতঙ্ক নামক দানবের সামনে মাথা নত করতে বাধ্য হয় মানুষ।
তবু নিজেকেই সচেষ্ট হতে হবে আতঙ্ক থেকে বেরিয়ে আসার। পুরোটা সম্ভব না হলেও কিছুটা তো সম্ভব, তাই না?
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)