বাতায়ন/আতঙ্ক/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | গল্পাণু
অলক
চক্রবর্তী
রক্তগঙ্গা
"গরম রক্তে আমি জবজবে হয়ে যাচ্ছি। আমি মরেও কী করে সব অনুভব করছি! বড়বাবুর গলা আরও কাছে, -তাড়াতাড়ি বস্তা খোল।"
গলাকাটা কালীমন্দিরের পাশ
দিয়ে যাচ্ছিলাম। সন্ধ্যা সাতটা। অকস্মাৎ পিছন থেকে কেউ ঝাঁপিয়ে জাপটে ধরল। একজন
মাথা দিয়ে বস্তা গলিয়ে দিল। যাতে কথা বলতে না পারি তাই দুটো ঠোঁটের মাঝখান দিয়েও
দড়ি পেঁচিয়ে দিল। আমি কে কে, বাঁচাও বাঁচাও, চিৎকার করতে চেষ্টা করলাম। কিন্তু গোঙানির আওয়াজ হল শুধু। কানে এল অনর্গল অশ্রাব্য খিস্তি। কিছুক্ষণের মধ্যে টের পেলাম, আমাকে গাড়ির ডিকির মধ্যে চালান করে দিল।
একজন বলল,
-তোর ছটফটানি বার করছি,
শালা
ছাল ছাড়িয়ে নুন মাখিয়ে কুত্তাকে খাওয়াব।
আরেকজন,
-শালা… সমাজসেবা,
বার
করছি। তোর জিভটা আজ কেটে নেব।
মৃত্যু ভয়ে আমি দিশেহারা, অনেকেই বারণ
করেছিল এদের পিছনে না লাগতে। এরা ড্রাগ পাচারে যুক্ত। আরও অসামাজিক কাজে লিপ্ত।
কিন্তু আমি পুলিশকে ইনফর্ম করেছিলাম। বন্ধুরা বলেছিল,
-পুলিশরাও বখরা পায়। মাঝখান থেকে খতরেমে জান দিয়ে কী লাভ!
চোখ-হাত-পা-মুখ বাঁধা। বরুণ
বিশ্বাসের কথা মনে হল। মনে হল, বাবা-মা-বোনের কী
হবে! এমএসসি পাশ করে টিউশানি পড়াই। মাসে হাজার কুড়ি হয়। লোকে বেকারই বলে। বাবার
পেনশনে কুলোয় না। থানার নতুন বড়বাবুকে বিশ্বাস করে অ্যান্টিসোশ্যালদের খবর
দিয়েছিলাম। এখন কেউ বাঁচাতে আসছে না।
আমাকে গুলি করে মারলে কষ্ট কম
হোত। কিন্তু জিভ কেটে, গায়ের চামড়া ছাড়িয়ে—ও
মাগো ভাবতে পারছি না। যেন যমপুরীর মধ্যে বীভৎস পদ্ধতিতে ভয়ঙ্কর কষ্ট দিয়ে তীব্র
যন্ত্রণার মৃত্যু! গাড়ি থামল। নামিয়ে জোরে লাথি মারল। চোখ বন্ধ অবস্থাতেও বুঝতে
পারছি জায়গাটা অন্ধকার। গুমোট, ভ্যাপসা বাতাস। হঠাৎ
উত্তেজনা টের পেলাম। গুলির শব্দ। এত কাছ থেকে তবু আমি বেঁচে আছি! পরপর গুলি
আর্তনাদ, কিন্তু আমি কী করে বেঁচে আছি! ভারি বুটের
শব্দ। বড়বাবুর গলা পেলাম,
-সব কটা টেঁসে গেছে।
গরম রক্তে আমি জবজবে হয়ে
যাচ্ছি। আমি মরেও কী করে সব অনুভব করছি! বড়বাবুর গলা আরও কাছে,
-তাড়াতাড়ি
বস্তা খোল।
~~000~~

No comments:
Post a Comment