বাতায়ন/আতঙ্ক/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/২য়
সংখ্যা/১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | গল্পাণু
গোবিন্দ
সাহা
অসময়ে
বর্ষা
"সেদিন বাড়ি ফেরেনি অনন্ত মন্ডল। নদীর পাড়ে একটা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে তাকে। কৃষকের জীবনে কৃষি এক আতঙ্ক।"
অসময়ে বৃষ্টি বাদল। ভরপুর
চৈত্রের মাঝে হঠাৎ বর্ষাকাল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই কী যেন হয়ে গেল। এ বছর আলুর ফলন
ভালই হয়েছিল। সমবায় থেকে ঋণ নিয়ে আলু চাষ করাই কাল হল অনন্তের। কুড়ি বিঘা জমিতে
আলু ছিল অনন্তের। ছেলেমেয়েদের মুখ তাকিয়ে চাষাভুসোর জীবন
এভাবেই চলে। সবুজ আলুর গাছে সাদা সাদা ফুল, যেন ফুলের বাগান।
পৌষ মাসে অনন্ত দেখেছে তার রূপ। বৌ বলেছিল এবার ভাল লাভ হলে পুজোতে বালুচরি শাড়ি নেবে।
আজ কয়েকদিন হল আকাশ মেঘলা।
অনন্ত বলল,
-এসময় এরকম হয়।
বৌ বলল,
-কিন্তু বৃষ্টি হলে তো
ক্ষেতের আলু ক্ষেতেই মিলাবে।
-না না অত দুশ্চিন্তা কর না।
-সব যেন ঠিক হয়। মাথায় ঋণের বোঝা। তার ওপর এত খাটুনি।
প্রকৃতি বিরূপ। মানুষের মনের
কথা সে কি বোঝে। এক সপ্তাহ অবিরাম ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। নদীর পাড়ে গাছ ভেঙে পড়েছে।
কাকের কান্না আর থামে না। অনন্ত মাঠে গেল। দেখে ক্ষেত ভরা জল। একে তো আলুর ন্যায্য
দাম নেই। সেই সঙ্গে এই বৃষ্টি। মাটির ভিতর থেকে উন্মুক্ত হয়ে পড়ে আছে আলু আর আলু।
দিশেহারা অনন্ত। বৌ-এর বালুচরি,
ছেলেমেয়েদের
বায়না। ঋণের করাল গ্রাস।
সেদিন বাড়ি ফেরেনি অনন্ত
মন্ডল। নদীর পাড়ে একটা গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে তাকে। কৃষকের জীবনে কৃষি
এক আতঙ্ক।
~~000~~
No comments:
Post a Comment