বাতায়ন/আতঙ্ক/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৩য় সংখ্যা/২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ছোটগল্প
মীনা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়
আতঙ্ক
আতঙ্ক | ছোটগল্প
মীনা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়
"লেখাপড়া শিখিনি। গ্যারেজ পরিস্কার করি। ফ্লাটের সিঁড়ি মুছি। আমার কিছু অভাব নাই। সবাই ভালবাসে। শাড়ি দেয়। তোমার অহংকার নাই, সূচিবাই নাই, সাজগোজ করো না। কত শ্রী তোমার!"
-বৌদি, কাজটা করবই। করোনা বলে কিছু নাই ওসব রাজনীতির চাল। আমি ঠিকে-ঝি বটে, বুঝি।
-অনিমাদি, চাইছি বাইরের কেউ আসবে না, আমরাও বেরোচ্ছি না।
কে কার কথা শোনে। দরজা খুলতে পীড়াপীড়ি। শেষমেশ মায়া হলো। আহা, দুটো ভাত-মাছের আশায় আসে!
-বৌদি, তেল মালিশ করে দিই। কাজে না নাও, হাতে-পায়ে ব্যথা তোমার। কেউ আছে যত্ন করতে! রসুন-তেল গরম করো। বৌদি, পঞ্চাশটা টাকা দাও! এটা আবদার। ভালবেসেই তোমাকে মালিশ করি। তুমিও ভালবেসেই খেতে দাও।
টাকা নেবেই সে। নইলে মেঝেতে শুয়ে কাঁদবে।
-তোমার পায়ে পড়ি। দাও খুব দরকার। চোখ ছুঁয়ে দিব্বি। সতীলক্ষ্মী তুমি। তোমাকে ছুঁয়ে বলছি। চোর নই। মিথ্যাবাদী নই। চরিত্র খারাপ করি না। গতর খাটাই। রোগ নাই। ওষুধ খাই না। অন্য কাজের মেয়েদের খাটবার ক্ষমতা নাই। কাজে ঢুকে বাড়ির পুরুষদের সঙ্গে... বৌদি, আমার বলতে লজ্জা। ওরা কেউ দেবে না মালিশ করে। ওদেরই গা-গতরে রোগে ভরতি। বৌদি, আমি পরিস্কার বলো! ভোরে স্নান করি। ঘরে পুজো সেরে কয়েক বাড়ি বাসিপাট। এক ছেলে নিয়ে চল্লিশ বছরের বিধবা। লেখাপড়া শিখিনি। গ্যারেজ পরিস্কার করি। ফ্লাটের সিঁড়ি মুছি। আমার কিছু অভাব নাই। সবাই ভালবাসে। শাড়ি দেয়। তোমার অহংকার নাই, সূচিবাই নাই, সাজগোজ করো না। কত শ্রী তোমার! তোমার সেবা করতেই আসি। কিচ্ছুটি চাই না বৌদি। তুমি কি চাকরি করো! না বড়লোক! যে টাকা দেবে! যাদের আছে, দেয় না, ওষুধে যায়। আয়াতে খায়।
~~000~~

No comments:
Post a Comment