প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Tuesday, May 5, 2026

আতঙ্ক | মীনা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়

বাতায়ন/আতঙ্ক/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৩য় সংখ্যা/২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ছোটগল্প
মীনা রায় বন্দ্যোপাধ্যায়
 
আতঙ্ক

"লেখাপড়া শিখিনি। গ্যারেজ পরিস্কার করি। ফ্লাটের সিঁড়ি মুছি। আমার কিছু অভাব নাই। সবাই ভালবাসে। শাড়ি দেয়। তোমার অহংকার নাইসূচিবাই নাইসাজগোজ করো না। কত শ্রী তোমার!"

 
বৌদি আতঙ্কে ভুগছে। গায়ে পড়ে সেবা করতে আসছে অনিমা। অনিমা পরিচারিকা। তাকে কাজে নিয়ে সংসারে অশান্তি হয়েছিল। করোনা-কালে তাকে ঘরে ঢুকতে দেয়নি। মাইনে মিটিয়ে বলেছিল,
-অনিমাদি, আর কাজে আসতে হবে না। হাঁচি-কাশি থেকেই ভাইরাস ছড়াচ্ছে।
-বৌদি, কাজটা করবই। করোনা বলে কিছু নাই ওসব রাজনীতির চাল। আমি ঠিকে-ঝি বটে, বুঝি।
-অনিমাদি, চাইছি বাইরের কেউ আসবে না, আমরাও বেরোচ্ছি না।
-ভয় পেয়ে খেটে মরবে মিছেই। সৎ মানুষ তুমি। রান্না দুটো ভাত দিও, কমসম মাইনে। পুজোতে দেবে সেও কি বেশি!
 
ছুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরোয় অনিমা, বৌদি জানে। কাজে লাগবে এক বলে, তারপরে নিত্যনতুন বাহানা। শোনাবে টাকা, শাড়ি-ব্লাউজ, সাবান, ক্রিম অন্য বৌদিরাও দেয়। বৌদি আতঙ্কে, ঠকাঠক দরজা ঠুকছে। কলিংবেল বাজায় না অনিমা। জানলা খুলল,
-স্নান-কাজ হয়ে গেছে। যাও।
কে কার কথা শোনে। দরজা খুলতে পীড়াপীড়ি। শেষমেশ মায়া হলো। আহা, দুটো ভাত-মাছের আশায় আসে!
-বৌদি, তেল মালিশ করে দিই। কাজে না নাও, হাতে-পায়ে ব্যথা তোমার। কেউ আছে যত্ন করতে! রসুন-তেল গরম করো। বৌদি, পঞ্চাশটা টাকা দাও! এটা আবদার। ভালবেসেই তোমাকে মালিশ করি। তুমিও ভালবেসেই খেতে দাও।
টাকা নেবেই সে। নইলে মেঝেতে শুয়ে কাঁদবে।
-তোমার পায়ে পড়ি। দাও খুব দরকার। চোখ ছুঁয়ে দিব্বি। সতীলক্ষ্মী তুমি। তোমাকে ছুঁয়ে বলছি। চোর নই। মিথ্যাবাদী নই। চরিত্র খারাপ করি না। গতর খাটাই। রোগ নাই। ওষুধ খাই না। অন্য কাজের মেয়েদের খাটবার ক্ষমতা নাই। কাজে ঢুকে বাড়ির পুরুষদের সঙ্গে... বৌদি, আমার বলতে লজ্জা। ওরা কেউ দেবে না মালিশ করে। ওদেরই গা-গতরে রোগে ভরতি। বৌদি, আমি পরিস্কার বলো! ভোরে স্নান করি। ঘরে পুজো সেরে কয়েক বাড়ি বাসিপাট। এক ছেলে নিয়ে চল্লিশ বছরের বিধবা। লেখাপড়া শিখিনি। গ্যারেজ পরিস্কার করি। ফ্লাটের সিঁড়ি মুছি। আমার কিছু অভাব নাই। সবাই ভালবাসে। শাড়ি দেয়। তোমার অহংকার নাই, সূচিবাই নাই, সাজগোজ করো না। কত শ্রী তোমার! তোমার সেবা করতেই আসি। কিচ্ছুটি চাই না বৌদি। তুমি কি চাকরি করো! না বড়লোক! যে টাকা দেবে! যাদের আছে, দেয় না, ওষুধে যায়। আয়াতে খায়।
 
ওই অনিমা আসছে। ইদানিং ঘনঘন আসছে। জ্বালানি গ্যাসের সমস্যা। আসলেই গরমভাত রেঁধে দিতেই হবে ওকে। বকবক করে নিজেরটা বুঝে নেবেই।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)