প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Tuesday, May 5, 2026

রাতের হাতছানি | সঙ্ঘমিত্রা দাস

বাতায়ন/আতঙ্ক/ছোটগল্প/৪র্থ বর্ষ/৩য় সংখ্যা/২৪শে বৈশাখ, ১৪৩৩
আতঙ্ক | ছোটগল্প
সঙ্ঘমিত্রা দাস
 
রাতের হাতছানি

"এত বছর পরে আবীরের মেসেজ! নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। কত কথা হলো সেই রাতে। প্রায় ভোর হয়ে গেল। ঘুম এসেছে কখন টেরও পায়নি। এইভাবে প্রতি রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যেতে থাকল। বসুন্ধরাকে বলবে ভেবেও ব্যস্ততার ফাঁকে আর বলা হয়ে ওঠেনি।"

 
তটিনী হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রল করছিল শুয়ে শুয়ে। অফিসে বসে থাকলে যত ঘুম জড়িয়ে আসে আর রাত বাড়লেই কোথায় যে পালায়। মোবাইল দেখতে দেখতে ক্লান্ত শরীরে ঘুম জড়িয়ে আসে এক সময়ে। রাত অনেক, হঠাৎ একটা আজানা নম্বরে মেসেজ— কী রে? কী খবর? চিনতে পারিস কিনা দেখত?
উপর থেকে মেসেজ দেখল, সিন করবে না এত রাতে, কার কী মতলব? ডিপি দেখতে প্রোফাইলে ঢুকতেই চমকে উঠল। এ তো আবীর। ওর কলেজের সহপাঠী। সহপাঠী বললে ভুল হবে তুমুল প্রেম ছিল সেসময় ওদের। কলেজের সবাই জানত, পারফেক্ট যুগল ছিল। কিন্তু ফাইনাল ইয়ারে হঠাৎ কোন কারণ না জানিয়েই কলেজ ছেড়েছিল। ফোন সুইচ অফ, বাড়ির অ্যাড্রেসে খুঁজতে গিয়েছিল বান্ধবী বসুন্ধরাকে নিয়ে। সদর দরজায় বড়ো তালা। পাড়ার লোক জানিয়েছিল মা আর ছেলে হঠাৎই রাতের অন্ধকারে কোথাও চলে গেছে। তারপর কেটে গেছে কত বছর, হাজার খোঁজাখুঁজিতেও আর হদিশ পায়নি। কলেজ শেষ করে চাকরি নিয়েছে তটিনী। বিয়ে করেনি আর, মায়ের অনেক বোঝানোতেও কাজ হয়নি। আস্তে আস্তে স্মৃতি আবছা হয়েছে। কিন্তু সেভাবে ভালোবাসতে পারেনি কারোকে।
 
এত বছর পরে আবীরের মেসেজ! নিজেকে ধরে রাখতে পারল না। কত কথা হলো সেই রাতে। প্রায় ভোর হয়ে গেল। ঘুম এসেছে কখন টেরও পায়নি। এইভাবে প্রতি রাতে ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যেতে থাকল। বসুন্ধরাকে বলবে ভেবেও ব্যস্ততার ফাঁকে আর বলা হয়ে ওঠেনি। আবীর কিন্তু হঠাৎ হারিয়ে যাবার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে চুপ থাকে। শুধু এড়িয়ে যায়। এভাবেই রাতে ফোনের কথাবার্তায় আবার  প্রেম জমে উঠল। তটিনীর বারবার প্রশ্নে দেখা করে সব জানাবে কথা দিল আবীর।
 
সেই মতো আজ তটিনী আর আবীর একটা কফিশপে দেখা করবে। অফিস থেকে বের হবার সময় একটু হালকা সাজগোজ করেছে তটিনী। এত বছর পর দেখা, বুকের ভিতরে তোলপাড় চলতে থাকে ওর। বাসস্টপে এসে দাঁড়াতেই পাশে বাইকটা গা ঘেঁসে দাঁড়ায়। হেলমেট খুলতেই সেই চেনা আবীর। একটুও যে বদলায়নি! একেবারে কলেজের চেহারা। বয়স যেন সেখানেই থমকে আছে। বাইকে উঠে বসতেই স্পীড তোলে আবীর। হুহু করে ছুটছে। কত কফিশপ, রেষ্টুরেন্ট পেরিয়ে ছুটছে গাড়ি। তটিনীর বেশ ভয় করতে লাগল। আবীরকে জড়িয়ে ধরল খুব শক্ত করে। উলটোদিক থেকে একটা বাস তীরবেগে ছুটে আসছে। মুহূর্তে বিকট শব্দ তারপর আর কিছু মনে নেই ওর। জ্ঞান ফিরল হাসপাতালের বিছানায়। উদ্‌বিগ্ন মা আর সাথে পুলিশ।
তটিনী জানল ও নাকি সুইসাইডের চেষ্টা করেছিল। বাসস্টপে আচমকা চলন্ত বাসের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। বাসটা স্ট্যান্ডে দাঁড়াবে বলে স্পীড কম থাকায় প্রাণে বেঁচে গেছে। ও কারোকে বিশ্বাস করাতে পারল না আবীর ছিল ওর সাথে। ওরা বাইকে যাচ্ছিল। উলটোদিকের একটা বাস, কিন্তু যারা দেখেছে তারা যে অন্য কথা বলছে।
তটিনী নিজের মোবাইল চাইল। ওর আর আবীরের হোয়াটসঅ্যাপে কথাগুলো প্রমাণ করবে ও মিথ্যা বলছে না। তন্নতন্ন করে খুঁজেও হোয়াটসঅ্যাপে আবীরের নম্বরটা যে খুঁজে পাচ্ছে না তটিনী। ওই নম্বরটাই তো নেই। ওদের ফোনের কথাবার্তা উধাও, কল লিস্টে আবীরের যে কোন অস্তিত্বই আর খুঁজে পেল না। আইসিইউ-এর কাচের দরজায় একটা ছায়া আবীর! আবীর!
চিৎকার করে সেদিকে আঙুল তুলে আবার অজ্ঞান হয়ে গেল তটিনী।
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 9 (Last 7 days)