প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

শারদীয়া | সম্পাদকীয়

বাতায়ন/শারদীয়া/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র , ১৪৩৩ শারদীয়া সম্পাদকীয়   ফকিরের চাল বাঙালির দুর্গা সার্বজনীন , চিরকালীন । ...

Friday, September 18, 2026

প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে | ধারাবাহিক-৭ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/শারদীয়া/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/১৬তম সংখ্যা/০৮ই আশ্বিণ, ১৪৩৩
শারদীয়া
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-৭

"আমাকে আদর খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে প্রেয়সী সাররাত খেলেছে। তপা একজন বড় খেলোয়াড়! আমি ঢ্যামনা এটা ধরতেই পারলাম না? প্রেয়সী আমাকে একেবারে শুইয়ে দিল?"

 
বউকে বোঝানো শিবেরও অসাধ্য আমি তো কোন ছাড়! বিশ্বাস হচ্ছে না? সদ্য বিয়ে করা বউকে একবার বুঝিয়ে দেখুন। অবশ্য আপনার ইচ্ছেই হবে না। তখন যে আপনি মাতাল! আমিও তৎসম!
 
প্রেয়সীকে অনেক বুঝিয়ে বুঝিয়ে মন্দারমণি নিয়ে যাব কথা দিলাম। ও আমাকেও বুঝিয়ে ছাড়ল,
-বলছ যখন যাব কিন্তু ওখানে তো আর নেকেডলি সান বাথ নেওয়া যাবে না, টিকটকের বারোটা বাজিয়ে দিলে, ঠিক আছে চলো তুমি আমার গুরুজন যখন বলছ।
ওর হেঁয়ালি মাখানো কথায় আমার পিলে চমকায়নি ঠিকই, উপরন্তু একটা সন্দেহ মনে উঁকিঝুঁকি মারল। তখন কি জানতেম ও একেবারে খবরাখবর নিয়েই মাঠে নেমেছে, ধাক্কা খেলাম একেবারে পিচে গিয়ে, প্রেয়সী ব্যাট করছিল ঠিকই কিন্তু বল ছুঁড়ছিল অপর প্রান্তের অন্যজন আর আমি গ্যালারীতে বসে প্রধানমন্ত্রী।
 
এবার সব বলে দিচ্ছি, যেদিন দুপুরে মন্দারমণি পৌঁছালাম সেদিন দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত প্রেয়সীর আদর দেখে কে? এক উজ্জ্বল নক্ষত্ররাজি যেন! আমায় চমকে দিল সেই আলোয়। ঘুমিয়ে পড়েছি আর স্বপ্ন দেখা কাকে বলে? কত কথা, কত গল্প দেখলাম, শুনলাম। ধড়ফড় করে উঠে বসলাম। দেখি দরজা খোলা, প্রেয়সী নেই। সে কী? কোথায় গেল? দৌড়ে দরজায় গেলাম, প্রেয়সীর প্রত্যর্পণ। ও উচ্ছ্বসিত,
-ঘুম আসছিল না তাই বাইরে ঘুরছিলাম।
-এত রাতে বাইরে?
-হোটেলের ভিতরেই লনে তো ভয় কী? কতজন ঘুরছে।
প্রেয়সীর 'কতজন' আমায় ভাবাল। বেশিক্ষণ ভাবতে হলো না। ভোর হতেই প্রেয়সী আমাকে টেনে বীচে নিয়ে গেল। ভাবছিলাম চা খাব। বাতিল করে দিতে হল। প্রেয়সী বীচে গিয়ে দৌড়ে হারিয়ে গেল। আমি খুঁজছি, অচেনা জায়গা তার উপর অন্ধকার আছে। আবার দৌড়ে এল ও। এসেই আবদার,
-মোটর রাইড করব...
-সেটা কী?
-সমুদ্রে বাইক চালাব?
-মানে?
-ওই তো দেখছ না সব দাঁড়িয়ে আছে সব।
দেখলাম ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন দাঁড়িয়ে আছেন। তারই মধ্যে থেকে আমাদের পাশের বাড়ির তপা বেরিয়ে এল আর আমাকে দেখে চমকে উঠে লাফাল,
-আরে দাদা যে? কবে এলেন? ওহ! বৌদি আছেন?
আমায় কোন উত্তর দিতে হল না। যার টোপ সেই গিলে নিল,
-ওহ! তপা তুমি এসেছ? কী মজা, দেখো তোমার দাদা ভয় পায়, ভালই হল, চলো না, তুমি কি রাইড করবে?
তপা গদগদ,
-কী যে বলেন? দাদা যাবে না, আর আমি কী করে আপনার সাথে যাই? উনি কী ভাববেন?
প্রেয়সী সময়ে বেরিয়ে আসতে পারে,
-না না, দাদা ওরকম মানুষ নয়। চলো তুমি আর আমি যাই।
প্রেয়সী একটানে তপাকে টেনে নিল, তারপর দৌড় লাগাল, যেন প্রেমিক-প্রেমিকা ছুটে চলেছে দুনিয়া ছেড়ে।
 
এতক্ষণে সব পরিষ্কার হয়ে গেল। আগে থেকেই সব প্ল্যানমাফিক হল আর আমি বোকা কিছু জানলাম না। গতরাতের আমার দেখা স্বপ্ন আসলে সত্য ঘটনা...
আমাকে আদর খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে প্রেয়সী সাররাত খেলেছে। তপা একজন বড় খেলোয়াড়! আমি ঢ্যামনা এটা ধরতেই পারলাম না? প্রেয়সী আমাকে একেবারে শুইয়ে দিল?
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)