প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

শারদীয়া | সম্পাদকীয়

বাতায়ন/শারদীয়া/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র , ১৪৩৩ শারদীয়া সম্পাদকীয়   ফকিরের চাল বাঙালির দুর্গা সার্বজনীন , চিরকালীন । ...

Friday, September 18, 2026

প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে | ধারাবাহিক-৮ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/শারদীয়া/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/১৭তম সংখ্যা/১৫ই আশ্বিণ, ১৪৩৩
শারদীয়া
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-৮

"অনেক খোঁজ করে সবচাইতে কম দামে দুটি স্যুট কিনে নিলাম। ভাবলাম উজ্জ্বল আছে, কাপড় অরিজিনাল রেমন্ড নয়, নকল স্ট্যাম্প মারা, প্রেয়সীর বাপের অসাধ্যি এর সঠিক মূল্যায়নে।"

 
প্রেয়সীর যে কত রকমের ইচ্ছে, তা জানলে মাথায় চক্কর কাটে।
-আচ্ছা আমরা যদি কিছু দানধ্যান করি কেমন হয়?
-মানে?
-মানে খুব সহজ। সব নিজে ভোগ না করে কিছু বিলিয়ে দেওয়া যাকে বলে। এটা খুবই ভাল কাজ।
-সব বুঝি। কিন্তু আমাদের টাকা কোথায়? এসব ধনী লোকেদের কাজ।
-না তা কেন? মন থাকলেই হল। আমি এবার পুজোয় কিছু জামা কাপড় বিলি করব। তুমি দুটো রেমন্ড স্যুট নিয়ে আসবে।
-রেমন্ডের স্যুট? উরি বাব্বা! বিলি করবে?
প্রেয়সী চোখ উল্টে দিল,
-ক্যানো ভাল জিনিস দিতে আপত্তি কোথায়? গরিবকে দিলে দামীই দিতে হয়। ওদেরও ইচ্ছে-অনিচ্ছের ব্যাপার থাকে।
-তোমার মাথা গেছে। ভিক্ষার চাল আবার কাড়া না আকাড়া।
-বাজে কথা রাখো আজই ফেরার পথে দুটো স্যুট কিনে আনবে ব্যাস!
-সে তো অনেক দাম? আবার দুটো। মাত্র দুটো ভিখারিকে দিয়েই বা কী হবে?
-মন থেকে পয়সা দান করলে ঠিক তা ফেরৎ দেয় ভগবান।
মহা মুশকিল হল। একে বোঝানো দায়। ও যেন একেবারেই জেদি। অফিস ফেরত বড়বাজার গেলাম। অনেক খোঁজ করে সবচাইতে কম দামে দুটি স্যুট কিনে নিলাম। ভাবলাম উজ্জ্বল আছে, কাপড় অরিজিনাল রেমন্ড নয়, নকল স্ট্যাম্প মারা, প্রেয়সীর বাপের অসাধ্যি এর সঠিক মূল্যায়নে। খুশি মনে বউয়ের হাতে তুলে দিলাম। বউ খুশি হয়েও সন্দেহ মনে,
-রেমন্ড শোরুম থেকে তো?
-তা নয়তো কী বড়বাজারের?
-না তাই জিজ্ঞাসা করে রাখলাম। দান করব তাই...
-কাদের দান করবে শুনি?
-যারা জীবনে কিছু পায়নি। নামে কী আসে যায়?
পরের দিন অফিস থেকে ফিরতেই প্রেয়সী আমার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল,
-মিথ্যাবাদী বদমাশ! এটা রেমন্ড স্যুট? চালাকি হচ্ছে?
আমি লড়াই চালাতে গিয়েও থেমে গেলাম। বুঝলাম পিছনে কেউ আছে। অনেক গালি হজম করে চুপ করে গেলাম। তাতেই শেষ হল না। প্রেয়সী আমাকে টেনে নিয়ে চলল রেমন্ড শোরুমে। সবচাইতে দামী দুটি স্যুট কিনে আমায় সর্বস্বান্ত করে দিল। আমার মাথায় ঢুকল না প্রেয়সীর দান কাদের জন্য? শুধু ও আমায় বললে বড়বাজারের স্যুট পড়ে তুমি অফিস যেও।
 
পুজোয় রাস্তায় দেখলাম ওই এক‌টি স্যুট পড়ে বেরিয়েছে তপা। অন্য স্যুট যে কার গায়ে চড়েছে আমি তাকেই খুঁজে চলেছি...
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)