প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

শারদীয়া | সম্পাদকীয়

বাতায়ন/শারদীয়া/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র , ১৪৩৩ শারদীয়া সম্পাদকীয়   ফকিরের চাল বাঙালির দুর্গা সার্বজনীন , চিরকালীন । ...

Friday, September 18, 2026

প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে | ধারাবাহিক-৯ | প্রদীপ কুমার দে

বাতায়ন/শারদীয়া/রম্যরচনা/৪র্থ বর্ষ/১৮তম সংখ্যা/২২শে আশ্বিণ, ১৪৩৩
শারদীয়া
রম্যরচনা
প্রদীপ কুমার দে
প্রেয়সীর ইচ্ছে অনিচ্ছে
ধারাবাহিক-৯

"বাড়িতে কর্তা না থাকলে পাড়ার প্রতিবেশী বন্ধুরা উপচে তখনই পড়বে যখন কিনা ওই বাড়িতে অবলা সুন্দরী নারী থাকবে। অবলাকে সবলা করার জন্য সব্বাই উঠে পড়ে লাগবেই, না হলে কী গুণ পুরুষ জাতের?"

 
এবার ঘুরতে হবে আমায়। প্রেয়সীর ধান্ধাবাজি ধরে ফেলেছি। মুখে খাতির করে। নিজের পেয়ারের লোককে খুশি করতে স্বামীকে পথে বসানোর ধান্ধা। এবার আমিই ওকে ধাক্কা দেবো। অফিস ফেরত গোমড়া মুখে বসে রইলাম।
প্রেয়সী চা জলখাবার নিয়ে এল, সামনে কালীপুজো কিছু চাহিদা নিশ্চয়ই ছিল। আমি চুপ।
-কী হল কী? তোমার জন্য যে ভাল টিফিনের ব্যবস্থা করলাম? খাচ্ছ না কেন?
-বদল...
-কী আবার বদল করবে?
-আমি নিজেই।
-সে আবার কী? ভীমরতি হল না কি?
-অফিস বদল করে দিল।
প্রেয়সীর চোখমুখ পাল্টে গেল,
-সে কী কথা গো? কোথায়? কবে?
-সময় দিল না। পরশুই জয়েন। এলাহাবাদ।
-হায় হায়। সে কী? সামনে কালীপুজো যে গো?
-হ্যাঁ। ঠিকই। এবার আমার পিছু ফাটবে।
-কী করবে?
-যেতেই হবে। এমার্জেন্সি। নোটিশ ধরিয়ে দিয়েছে হাতে। আমার হাতও যে ফাঁকা। তোমার কাছে যা আছে আমায় দাও।
-আমি কোথা দিয়ে দেব?
-থাক তাহলে।
-আমি যাব না? ঘুরতে?
-টাকাপয়সা যে কিছু নেই। কিছু থাকলে সব দাও। আমি মাইনে পেলেই পাঠিয়ে দেব, তুমি তখন ঘুরে যাবে।
-দাঁড়াও দেখি।
কায়দায় কাজ হল। ওর কাছে থেকে মোটা আদায় করে এক কলিগ বন্ধুর বাড়ি থেকেই অফিস করলাম। বউ জানল আমি এলাহাবাদ। বাড়ির উপর নজরদারি লাগিয়ে দিলাম।
 
বাড়িতে কর্তা না থাকলে পাড়ার প্রতিবেশী বন্ধুরা উপচে তখনই পড়বে যখন কিনা ওই বাড়িতে অবলা সুন্দরী নারী থাকবে। অবলাকে সবলা করার জন্য সব্বাই উঠে পড়ে লাগবেই, না হলে কী গুণ পুরুষ জাতের? জানা লোকের সাথে সাথে অচেনা লোকের ভিড়ে ভরে গেল। যদি কারোর সাহায্য লাগে। গণ্ডগোল হল অন্য স্থানে। অর্থ চেয়ে বসল প্রেয়সী। উপকারীরারা পালাতে পারলে বাঁচে।
 
পাঁচদিন পর বড় আনন্দের খবর পেলাম। নজরদার জানাল পাশের বাড়ির তপা আর ওর এক বন্ধু বেঁকাও কেটেছে। কারণ প্রেয়সী নাকি ওদের উপর নির্ভরতার সাহায্য চেয়েছিল। আসল জায়গাটা আমি যে আগেই মেরে দিয়েছি যতটা সম্ভব ওর মজুত হাতিয়ে নিয়ে উপরন্তু বড় ধাক্কা দিয়েছি এক টাকাও না পাঠিয়ে।
 
ছয়দিনের মাথায় প্রেয়সী বাপের ঘরে চলে যায়। কালীপুজোর অমাবস্যায় অন্ধকারে তার ইচ্ছের গাছ শুকিয়ে মরে কিন্তু অনিচ্ছে বেঁচে থাকে। এবার সেটার পালা!
 

~~000~~

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)