বাতায়ন/শারদীয়া/গল্পাণু/৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র, ১৪৩৩
শারদীয়া
গল্পাণু
সুনীল রায়
নদীর সাথে
"সব তোমার উপর নির্ভর করছে। একটি নারীই তো পুরুষকে বেঁধে রাখে। একদিন হয়তো তোমার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে। সেদিন বলবে এবার তুমি এসো।"
চলার
পথে কলকল করে হাসে, সবার সাথে খুব ভাব
নদীর। নদী তার স্রোতে ভাসিয়ে নিয়ে যায় যেই পড়ে তার স্রোতের মুখে। নদীর সারা
শরীর জুড়ে ভালবাসা উপচে পড়ে। যে তার পাশে যায় একটু ছুঁয়ে দেয়। তাকে নদী
ডোবায় তার দুরন্ত স্রোতে। একদিন নদীর জলে পিছলে পড়ে ঋক। নদী তাকে বাঁধে
আষ্টেপৃষ্ঠে। বলে,
-তুমি কোনদিন আমায়
ছেড়ে যাবে না তো?
ঋক বলে,
-সব তোমার উপর নির্ভর করছে।
একটি নারীই তো পুরুষকে বেঁধে রাখে। একদিন হয়তো তোমার প্রয়োজন শেষ হয়ে যাবে।
সেদিন বলবে এবার তুমি এসো।
অফিস
আওয়ারে একটা টেবিলে কম্পিউটারে কাজ করে দুজনে। হাতে হাত ছোঁয়। নদী খুব সুন্দর
করে চা বানিয়ে স্যারকে মুগ্ধ করে। ঋক নদীর অগাধ জলে ঝাঁপ দেয়। ভাসতে ভাসতে একদিন
খুব কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে।
নদীর
স্বামী এসে হামলা চালায় অফিসে। ঋক পরিস্থিতি সামাল দেয় সেবারে। এবারে এসে পড়ে
এলাকার নেতা, পাড়াপড়শি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে লিখিত
অভিযোগ জানায়, ঋক অফিসে এসে নদীর
সাথে প্রেম করে। অবৈধ প্রেম।
ঋক
বদলি হয়ে চলে যায় দূরে। নদী যোগাযোগ রাখতে চেষ্টা করে। ঋকের আর মন লাগে না। ওই
স্বার্থপর মানুষগুলো নিজের সংসার দেখে, পরিবারের সম্মান দেখে,
একটি
মানুষের ভেসে যাওয়া দেখে না। ঋক আর পাত্তা দেয় না। এত সম্মানীয় মানুষের সঙ্গে
আর কীসের সম্পর্ক? টাকার জন্যে, কোনো জিনিসের জন্যে ঋককে বেশ
তোয়াজ করে নদী। ঋক আর নদীর তোয়াজে পাত্তা দেয় না।
ওদের
হাই ভোল্টেজ পরিবার। সবার খুব মানসম্মান। এ-জীবনে ওদের গ্রামে আর যাবে না
কোনদিন ঋক। নদী
তার গতি বদলাবে। আরো স্রোতে কাউকে ভাসাবে। ভাসাক তাতে ঋকের কিছু যায়-আসে না।
~~000~~
No comments:
Post a Comment