প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Saturday, February 10, 2024

খোলা মনে | বিমল চন্দ্র রায়

 

বাতায়ন/হলদে খাম/১ম বর্ষ/২৯তম সংখ্যা/২৬শে মাঘ, ১৪৩০

হলদে খাম

বিমল চন্দ্র রায়


খোলা মনে


প্রিয় বাতায়ন,

আজ কিছু লিখতে গিয়ে হাতে এসে চেপে বসল আমার হারানো শৈশবের এক হৃদয়বিদারক অতীত স্মৃতি - আমার শৈশব ইতিহাসের এক করুণ অধ্যায়।

আমরা মনীষীদের জীবনী সাগ্রহে পড়ি-তাঁদের জীবন আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার তাগিদে। আমি সেই সব মনীষীদের পায়ের ধুলোরও যোগ্য নই। তাই এ কাহিনি কারুর পড়ার প্রয়োজন হবে না জানি, তবু মনে হয়, শৈশবে চোরাবালিতে নিমজ্জিত হয়েও কী ভাবে তা থেকে সরে এসে একটা সাদামাটা জীবনে ফেরা সম্ভব, বা কেবল মাত্র আলস্য আর লক্ষ্যহীন জীবনচর্চা কীভাবে একটা সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারে, তার উদাহরণ মিলতে পারে আমার জীবন কাহিনির পাতায় পাতায়।
শ্বাপদসংকুল ঘন গভীর জঙ্গলে ঘেরা আমার গ্রাম। হাতির উপদ্রব কমে গেলেও বাঘ, নেকড়ে, হায়েনা, ভোঁদড়, ভাল্লুক, বুনো শুয়োর আর অজগর, কেউটে, গোখরোদের ভয় তখনও ছিল।
যে বয়সে ছেলেরা খেলাধুলার মাঝে মায়ের একটু স্নেহ আদরের আশায় মায়ের পাশে ঘুরঘুর করে, ঠিক সেই বয়সেই আমার মা, আমার একটা লড়ায় (হাতে) ধরে টানতে টানতে নিষ্ঠুরের মতো পৌঁছে দিতে বাধ্য হয়েছিল কিশোর কাকার জিম্মায়। বলেছিল - "ঠাকুরপো ছেল্যাটাকে সাঁঝের বেলা ফির‍্যে আনবে!" উত্তরে কিশোর কাকা যেই বলল - "বউদি! এই দুধের বাচ্চাটাকে তুমি বাঘ-ভালুকের মুখে ঠেলে দিচ্ছ!" - অমনি মা চোখদুটো আঁচলে ঢেকে মুখ ফিরাল। বুঝলাম মা চোখের জল সামলাতে পারছে না। দারিদ্রের নিষ্ঠুর বাস্তবতা বহু কষ্টেও এড়াতে পারেনি মাতৃহৃদয়। সেই বয়সেও মায়ের যন্ত্রণায় কাতর হয়েছিল আমার শিশু মন। মুহূর্তে বদলে গেল আমার গোষ্ঠে না যাওয়ার একটানা জিদ। মুখে হাসি টেনে বলি - "কুনু চিন্তা করনি মা! আমার কিচ্ছু হবেনি। আমি পারব গোরু চড়াতে।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের "বীর পুরুষ”এর মতোই বুক চিতিয়ে হয়তো বলেছিলাম সেদিন সেই কথাগুলো! সেদিন থেকেই শুরু আমার রাখালির বাল্যলীলা। সেই সুবাদেই পাশাপাশি জঙ্গলের গাছপালা, খাল-খুল্যা-সহ তার প্রাকৃতিক গঠনের সঙ্গে আমার গভীর পরিচিতি ঘটে।
খুব ছোট থেকেই ভুগতাম অরুচি রোগে। তাতেই দুর্বল হয়ে পড়ে শরীর। যত্ন করে সময় নিয়ে খাওয়ানো বা ভালমন্দ কিছু খাবার দেওয়ার সময় ও সামর্থ্য, কোনোটাই জুটেনি আমার মায়ের। তার উপর এই শিশুশ্রম, শরীরকে আরো দুর্বল করে তুলে। সুযোগ বুঝে আক্রমণ শানায় পিলে রোগ। তারই মধ্যে জীবন যেন এক অতি সংকীর্ণ নালি বেয়ে চলতে থাকে।

শুভেচ্ছান্তে -
বিমল চন্দ্র রায়


No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)