প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Saturday, February 10, 2024

বাংলা-র আকাশে... | উপেক্ষিৎ শর্মা

  

বাতায়ন/গদ্য/১ম বর্ষ/২৯তম সংখ্যা/২৬শে মাঘ, ১৪৩০

গদ্য
উপেক্ষিৎ শর্মা

বাংলা-র আকাশে...

‘বাংলা-র আকাশে আজ দুর্যোগের ঘনঘটা’
মাতৃভাষা দিবসের প্রাক্কালে বাঙালি হিসেবে প্রায় প্রবাদের মতো এই একটা বাক্য যখন মাথায় আছড়ে পড়ে তখন মনে হয় এ কেবল সিরাজদ্দৌলা নাটকের জনপ্রিয় সংলাপেই আজ আর থেমে নেইবাংলার আকাশে মেঘ যে যথার্থই ঘনিয়ে এসেছে একথা বলাই বাহুল্য। অবশ্যই আমার এ প্রসঙ্গ রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক প্রেক্ষিতে নয়, মায় সামাজিক পরিবর্তন প্রসঙ্গেও না। বলতে চাইছি, ভাষিক বা সাহিত্যিক বাতাবরণের নিরিখে। এখন বাংলা কথ্য এবং 

কিছু ক্ষেত্রে লেখ্য ভাষাতেও চলছে একটা বেটাল টানাপড়েন। যে কোন বঙ্গভাষীর কাছে যা নিশ্চয়ই উপলব্ধ হচ্ছে, হয়েই চলেছে। প্রসঙ্গটা মূলত ইংরেজি ও হিন্দি বা হিংরেজি নিয়ে। মানে বাংলা ভাষার ওপর অন্য ভাষা, বিশেষত ইংরেজি এবং হিন্দি ভাষার অযাচিত প্রয়োগ বাহুল্য নিয়ে। আমাদের মাতৃভাষার ওপর দুরমুশ চালিয়ে হিংরেজিকে আপন করে নেবার প্রয়াস প্রচেষ্টা এবং অমোঘ আগ্রহের আতিশয্যে আমরা যেন আজ এক বকচ্ছপ ভাষায় অভ্যস্থ হয়ে পড়েছি। ভুলতে বসেছি নিজের মাতৃভাষার অস্তিত্বকেই।

অথচ একসময় এই আমরাই ইংরেজি ভাষাটাকে শিখতাম ঠিকই, কিন্তু ২য় ভাষার মর্যাদায়। আর হিন্দি তো এখন আমাদের ‘আপনা language’ হয়ে গেছে।

একসময় আমরা সামান্য একটা নেড়ি কুকুর পুষলেও তার নাম রাখতাম টমি, তাকে আদেশ দিতাম ইংরেজিতে, ‘গো, গো টমি। কাম হিয়ার। সিট ডাউন’, ইত্যাদি। যেন এটাই দস্তুর। এর মধ্যে হয়তো একটু ইংরেজ বিদ্বেষী মানসিকতাও ক্রিয়াশীল ছিল, অথবা কুকুর পোষা ব্যাপারটাই ইংরেজি সংস্কৃতি হিসেবে আমরা কুকুরের ক্ষেত্রে ওই ভাষাটাই উপযুক্ত ঠাহর করতাম। অথচ আজ আমাদের বাঙালির ঘরে ঘরে শিশু শব্দ উচ্চারণ করতে শিখলেই ওপরে হাত মুঠো করে তুলে বলে ওঠে, ‘হ্যান্দ’, নাকে হাত দিয়েই বলে ‘নোজ’। বিদায় বেলায় হাত নাড়তে নাড়তে  বলে ওঠে, ‘তা তা’। এসব আমাদেরই শেখান শব্দাবলি। বাঙালি শিশুর আনকোরা অভিধানে এইসব ‘ভোকাবুলারি’ লিপিবদ্ধ হচ্ছে। ‘মাম্মি-ড্যাডি’ তো বহুদিনই রপ্ত করে ফেলেছে বাঙালি। ‘আমার ছেলে বেঙ্গলিতে ভীষণ উইক, ইংলিশটা ওর আটকায় না’-এরকম উন্নাসিক বঙ্গমাতা আকছার মিলবে শহরে। আর প্রবাসী হলে তার সন্তানের বাংলা বলতে না পারার গুণপনা জাহির করার জন্য হাঁকপাঁক করতে দেখেছি বহু বাঙালিকে। এও এক বাঙালিয়ানা। এর পেছনে হয়তো কিছু অকাট্য যুক্তি আছে, তবু যখন ভাবি...

ভাবি, আমাদেরই উত্তরপুরুষ রবীন্দ্রনাথ পড়বে অনুবাদে, আর সাবটাইটেল দেওয়া ‘পথের পাঁচালী’ দেখে ‘টু স্লো আ মুভি’ বলে নাক কুঁচকোবে তখন ডুকরে কেঁদে ফেলতে ইচ্ছে করবে। করবে না?

 

সমাপ্ত

1 comment:

  1. ভালো লাগলো। খুবই প্রাসঙ্গিক।

    ReplyDelete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)