বাংলা-র আকাশে...
অথচ একসময় এই আমরাই ইংরেজি ভাষাটাকে শিখতাম ঠিকই, কিন্তু ২য় ভাষার মর্যাদায়। আর হিন্দি তো এখন আমাদের ‘আপনা language’ হয়ে গেছে।
একসময় আমরা সামান্য একটা নেড়ি কুকুর পুষলেও তার নাম রাখতাম টমি, তাকে আদেশ দিতাম ইংরেজিতে, ‘গো, গো টমি। কাম হিয়ার। সিট ডাউন’, ইত্যাদি। যেন এটাই দস্তুর। এর মধ্যে হয়তো একটু ইংরেজ বিদ্বেষী মানসিকতাও ক্রিয়াশীল ছিল, অথবা কুকুর পোষা ব্যাপারটাই ইংরেজি সংস্কৃতি হিসেবে আমরা কুকুরের ক্ষেত্রে ওই ভাষাটাই উপযুক্ত ঠাহর করতাম। অথচ আজ আমাদের বাঙালির ঘরে ঘরে শিশু শব্দ উচ্চারণ করতে শিখলেই ওপরে হাত মুঠো করে তুলে বলে ওঠে, ‘হ্যান্দ’, নাকে হাত দিয়েই বলে ‘নোজ’। বিদায় বেলায় হাত নাড়তে নাড়তে বলে ওঠে, ‘তা তা’। এসব আমাদেরই শেখান শব্দাবলি। বাঙালি শিশুর আনকোরা অভিধানে এইসব ‘ভোকাবুলারি’ লিপিবদ্ধ হচ্ছে। ‘মাম্মি-ড্যাডি’ তো বহুদিনই রপ্ত করে ফেলেছে বাঙালি। ‘আমার ছেলে বেঙ্গলিতে ভীষণ উইক, ইংলিশটা ওর আটকায় না’-এরকম উন্নাসিক বঙ্গমাতা আকছার মিলবে শহরে। আর প্রবাসী হলে তার সন্তানের বাংলা বলতে না পারার গুণপনা জাহির করার জন্য হাঁকপাঁক করতে দেখেছি বহু বাঙালিকে। এও এক বাঙালিয়ানা। এর পেছনে হয়তো কিছু অকাট্য যুক্তি আছে, তবু যখন ভাবি...
ভাবি, আমাদেরই উত্তরপুরুষ রবীন্দ্রনাথ পড়বে অনুবাদে, আর সাবটাইটেল দেওয়া ‘পথের পাঁচালী’ দেখে ‘টু স্লো আ মুভি’ বলে নাক কুঁচকোবে তখন ডুকরে কেঁদে ফেলতে ইচ্ছে করবে। করবে না?
সমাপ্ত
ভালো লাগলো। খুবই প্রাসঙ্গিক।
ReplyDelete