বাতায়ন/রম্যরচনা
সিরিজ/৩য় বর্ষ/৪২তম সংখ্যা/৮ই ফাল্গুন, ১৪৩২
রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
দুষ্টু
বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক
রম্যঃ তিন
"খাওয়াদাওয়া সেরে ও দরজায় ছিটকিনি লাগিয়ে তবে আমাকে নিয়ে বিছানায় উঠেছে। কী বুদ্ধি! একেই বলে ভদ্রতা আর বুদ্ধিমতীর কাজ। মাকে বাঁচিয়ে ও আমার সঙ্গে লেপ্টে আছে।"
ধকাস করে কচাঙ আওয়াজ উঠতেই
দরজা খুলে গেল, চোখ বড়বড় করে তাকিয়ে দেখি, ওমা! এ কী? এ যে মা দাঁড়িয়ে...?
মায়ের মন ঠিক ধরে নিল, মেয়েদের জাত সবাই বোঝে আমাদের পুরুষদের মনের কথা,
-বৌমা এখনও আসেনি। তুই যাওয়ার পরই বেরিয়ে গেল। ফোন এল, বললে পাশের বাড়ির বৌদি ডাকছে।
আমি শান্ত হলাম। মাকে বললাম,
-ফোন করনি কেন? মোবাইলে কল কর।
-করেছিলাম। বেজে গেল।
-সে কী? কই দেখি পাশের বৌদিকে ফোন করে
দেখি তো।
মোবাইল রগড়ে দিলাম,
-বৌদি আমি তোমার দুষ্টু বলছি, মিষ্টিকে একবার দাও তো...
বৌদি শুক্তো হেসে
হেসে,
-কী খবর দেবর? মিষ্টি কী বলছে?
-সে তো তোমার কাছেই...
-সে কী? সে তো তোমার ফোন পেয়েই দৌড়ে
চলে গেল।
-আমার ফোন? আমি ওকে ফোন করেছিলাম?
-ন্যাকা, তা হলে কি কচ্চি বউ
ছেড়ে আমার মতো পাক্কাকে ফোন করবে?
-কী যে বল না?
-যাক-গে, ও বললে তুমি মাঠে ওর
জন্যে দাঁড়িয়ে আছ, তাই ও দৌড়াল।
-ওহো! ও তাই বলল?
-হ্যাঁ। তা কী ব্যাপার ঘরে ভরদুপুরে ঘরে মা আছে তাই
তোমরা মাঠে গিয়ে কাজ সারছ? তা ভাল বুদ্ধি আছে
তোমাদের!
মোবাইল টিপে ফোন কেটে দিলাম।
আমার অবস্থা বড় খারাপ। বড়জোর ছোট বাইরে পেয়েছিল, এখন সেটাও মাথায় চড়ে বসল। বুঝতে পারছি না কী করব? মা-ও কী ভাবছে কে জানে? ঠিক এই সময়ে মিষ্টি ছুটে চলে এল। এসেই একঝলক হেসে জানল,
-আরে আমার কাকা এখানে কাজে এসেছিল। বলল একটিবার আয় আমি পাশের
বাড়িতেই আছি তাই গেছিলাম। দেরি হয়ে গেল।
-কাকা? শুক্তো বৌদি যে বলল
আমার ফোন পেয়ে তুমি মাঠে গেছ?
মিষ্টি রাগ দেখাল,
-তুমি না কেমন? সবাইকে সব বলতে আছে? ও আবার কী ভাববে? চল চল, অনেক কাজ বাকি পরে
আছে, পরে বসে মজা হবে।
চোখে একটা ইশারা করল মিষ্টি
যার মানে আমি বুঝি। লোভ সামলানো দায় হয় তাই চুপ করে ওই অস্ত্রের কাছে মাথা নত
করতেই হয়। মা শুধু বাজে কথা বলে দিল,
-বৌ নয় একেবারেই গাছচালানি মেয়ে।
মানে বোঝার সময় পেলুম কই? মিষ্টি বউ আমায় টেনে নিয়ে বাথরুমে ঢুকল যে... মিষ্টি এত ভাল
মেয়ে এত ভালবাসতে পারে তার কেউ ভাগ না পেলে তাকে বোঝানো দায়। আমি ওর স্বামী তাই
আমাকে যতরকম ভাবে পারে মন দিয়ে শরীর দিয়ে বুঝিয়ে দেয় যে আমার জন্যই তৈরি হয়েছে।
অনেকে ভাবতে পারে আমি একটু নতুন বউয়ের প্রশংসা করছি তা নয় কিন্তু, ওর ভিতর থেকে একটা মিষ্টি গন্ধ বের হয় যা আমি পাই।
খাওয়াদাওয়া সেরে ও দরজায়
ছিটকিনি লাগিয়ে তবে আমাকে নিয়ে বিছানায় উঠেছে। কী বুদ্ধি! একেই
বলে ভদ্রতা আর বুদ্ধিমতীর কাজ। মাকে বাঁচিয়ে ও আমার সঙ্গে লেপ্টে আছে। মায়েরা ওরকম
একটু বউয়ের নিন্দে করে। তারাও এরকম করেছিল না? তাদের শ্বাশুড়িও তো খারাপভাবে নিত। আর নিজের পেটের ছেলেকে
তার সামনেই বাইরের এক মেয়ে বশ করে ফেলছে এটা সত্যিই বড় কষ্টের। এটা মানবে, তবে সেটা অনেক পরে যখন ছেলে মায়ের অবাধ্য হয়ে বউয়ের ন্যাওটা
হয়ে যাবে। তাই না? আপনারা কী বলেন? আমি সব বুঝি। মাকেও জানি এখন বউয়ের হেপাজতে ওর গোলাম
হয়ে যাচ্ছি। তা যাব না? ও কত কত ভালবাসে কত
কায়দা জানে। ছলাত ছলাত ছল জানে যে...
ক্রমশ

ধন্যবাদ জানাই 👍
ReplyDelete