প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

ক্ষণিকের অতিথি | আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত

বাতায়ন / ক্ষণিকের অতিথি /সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে   ফাল্গুন ,   ১৪৩২ ক্ষণিকের অতিথি  |  সম্পাদকীয়     আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত ...

Sunday, March 8, 2026

সাথীহারা মন | প্রকাশ চন্দ্র রায়

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/ছোটগল্প/৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | ছোটগল্প
প্রকাশ চন্দ্র রায়
 
সাথীহারা মন

"চাকুরির প্রথম মাসের প্রাপ্ত বেতনের বিশ হাজার টাকা পলিথিনে জড়িয়ে ছুটলাম নতুন কেনা বাইকে চড়ে। সামনের মোড়ে পুরুষের পোষাকের উপ রেইনকোট পরে দাঁড়িয়ে আছে সাথীসাথে বিরাট আকারের একটা ট্রাভেল ব্যাগকাপড়-চোপড়ে ভর্তি। আমাকে দেখেই বলে উঠল"

 
সাথীকে ভালবাসতাম খুব খুউব। আমাদের বাসার পাশের বাসাটাই সাথীদের। আমার রুমের জানালা আর সাথীর রুমের জানালা সোজাসুজি-মুখোমুখি। কতদিন কতভাবে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছি তাকে, প্রায় দিনই সে বলেছে,
-আচ্ছা দাদা, দেখা যাবে।
মন খারাপ করে বলেছি,
-তবে দাদা বলে ডাকছ কেন? তুমি বলে ডাকো। 
উত্তরে বলেছে,
-যখন হবে তখন ডাকব।
মা'কে বলেছি,
-মা, সাথীকে বিয়ে করব।
আঁতকে উঠে মা বলেছে,
-ওরা খুব বড়লোক! খবরদার আর কখনো এরকম ভাবিস না।
আমার কিন্তু মন মানে না। সাথী ছাড়া অন্য কোন মেয়েই আমার পছন্দে আসছে না।
 
আজ রাত বারোটার পরে হঠাৎ করে সাথীর ফোন পেয়ে আনন্দে লাফিয়ে উঠলাম!
-হ্যালো সাথী!
ওপাশ থেকে উৎকন্ঠিত সাথী ফিসফিস করে বলল,
-দাদা, তাড়াতাড়ি কিছু টাকাপয়সা নিয়ে তোমার বাইকে করে সামনের মোড়ে চলে এসো।
অবিশ্বাস্য আনন্দে হতবাক হয়ে গেলাম, বুকের ভিতর আশাপাখি লাফাচ্ছে,
-কিন্তু যাব কীভাবে? বাইরে তো মুষলধারায় বৃষ্টি চলছে।
সাথী বলল,
-রেইনকোট পরে আসো।
তথাস্তু। এনজিও অফিসে প্রথম চাকুরির প্রথম মাসের প্রাপ্ত বেতনের বিশ হাজার টাকা পলিথিনে জড়িয়ে ছুটলাম নতুন কেনা বাইকে চড়ে। সামনের মোড়ে পুরুষের পোষাকের উপ রেইনকোট পরে দাঁড়িয়ে আছে সাথী, সাথে বিরাট আকারের একটা ট্রাভেল ব্যাগ, কাপড়-চোপড়ে ভর্তি। আমাকে দেখেই বলে উঠল,
-টাকা এনেছ তো?
পলিথিন জড়ানো টাকাগুলো ওর হাতে দিতেই ট্রাভেল ব্যাগের সাইড পকেটে রেখে, ছেলেদের মতো করে বাইকে চড়ে বসল সে। ব্যাগটা রাখল ওর আর আমার মাঝখানে। বৃষ্টি ততক্ষণে কমে এসেছে। ওর নির্দেশ মতো আমি চালাচ্ছি হানড্রেড সিসির বাইক। আকাবাঁকা মেঠো পথে চলছি তো চলছিই। আনন্দাতিশয্যে ধ্বক ধ্বক করে লাফাচ্ছে আমার হৃৎপিন্ড! আর সাথী! কানে হেডফোন লাগিয়ে অনুচ্চস্বরে কার সাথে যেন কথা বলে চলছে মোবাইল ফোনে।
প্রায় ঘন্টা-খানেক ড্রাইভ করে পৌঁছলাম শেষে তিস্তা নদীর এক ঘাটে। ঘাটে ভিড়ানো ছইওয়ালা একখানা নৌকা থেকে উঠে এলো আমার থেকে অন্তত চার ইঞ্চি বেশি উচ্চতার একজন সুদর্শন যুবক আর মাঝি। সাথী বাইক থেকে নেমে ব্যাগটা মাঝিকে দিয়ে জড়িয়ে ধরল যুবককে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতভম্ব হয়ে দাঁড়িয়ে আছি আমি। তারপরে আবেগাপ্লুত সাথী কাছে এসে পা ছুঁয়ে প্রণাম করল আমাকে, কাঁপা কাঁপা কন্ঠে বলল,
-দাদা, ক্ষমা করিও আর আশীর্বাদ করো যেন সুখী হতে পারি আমরা।
বলতে বলতে যুবকের হাত ধরে নৌকায় গিয়ে উঠল সে। নৌকা ছেড়ে দিল মাঝি, বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে থ মেরে দাঁড়িয়ে থাকলাম আমি।
 
~~000~~

No comments:

Post a Comment

ফিরতে হবে ঘরে~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)