বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/প্রবন্ধ/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| প্রবন্ধ
পারমিতা
চ্যাটার্জি
নেতাজি
সুভাষ বোস
"এরকম পরিস্থিতিতে তাদেরও আর শাসন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নেতাজির এই সাহস ও উদ্যম, অসম্ভব ত্যাগ ও কষ্টসহিষ্ণুতা ভারতের স্বাধীনতাকে ত্বরান্বিত করেছিল।"
আজ আমরা বাস করছি স্বাধীন
দেশের স্বাধীন নাগরিক হয়ে কিন্তু আজকের এই স্বাধীনতার পিছনে অনেক লম্বা ইতিহাস
আছে। এই স্বাধীনতা আমরা পেতাম না যদি না সুভাষচন্দ্র বসু স্বাধীনতা সংগ্রামে এক
উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে দেখা দিতেন। প্রথমে তিনি জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন কিন্তু
মহাত্মা গান্ধীর সাথে নীতিগত মতপার্থক্যের ফলে তিনি কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করে
ফরোয়ার্ড ব্লক নামে একটি দল গঠন করেন। তিনি বুঝেছিলেন অহিংস আন্দোলনে কোনদিন
ভারতের স্বাধীনতা আসবে না এর জন্য চাই অস্ত্রের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরা।
তিনি ভারতের তরুণ বিপ্লবীদের
ডাক দিয়ে বলেন, "তোমরা আমাকে রক্ত দও
আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব।"
নেতাজির এই ডাকে দলে দলে
বিপ্লবীরা আন্দোলনের সামিল হয়ে ওঠেন। নেতাজির জেল হয়, জেল থেকে ছাড়া পেয়ে আবার তিনি আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এরপর
নিজ গৃহে তাকে অন্তরীণ করে রাখা হয় কিন্তু এই উদ্যমী দেশনায়ক বন্দি থাকার
মানুষ নন। তিনি ছদ্মবেশে তাঁর ভাইপো শিশির বসুর সাহায্যে গাড়িতে করে পালিয়ে যান।
গোমো স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে পেশোয়ারে চলে যান। পেশোয়ার হয়ে
আফগানিস্তান পৌঁছোন তারপর ইটালীয় কুটনৈতিক ছদ্মবেশে জার্মানি ও রাশিয়ার উদ্দেশ্যে
যাত্রা করেন ভারতের স্বাধীনতার জন্য অক্ষ শক্তির সাহায্য খুঁজতে। এই যাত্রায় তিনি
একাধিকবার ছদ্মবেশ ধারণ করেন। যেমন মহম্মদ জিয়াউদ্দিন আফগান এবং ইতালীয় পাসপোর্ট
ব্যবহার করে অরল্যান্ডো সেজে ব্রিটিশ
সাম্রাজ্যকে ফাঁকি দেওয়ার এক রোমাঞ্চকর অভিযান। রাশিয়ায় পৌঁছে প্রথমে তিনি
জার্মানির বার্লিনের দিকে যাত্রা করেন। বার্লিনে পৌঁছে তিনি অক্ষ শক্তির সাহায্যে
ভারতের স্বাধীনতার জন্য সহযোগিতা করার পরিকল্পনা করেন। নেতাজির এই আফগানিস্তান যাত্রা ভারতের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় যা তার
সাহস ও কৌশলকে তুলে ধরে। এদিকে ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে বোস ইজ মিসিং বলে যখন
সোরগোল পড়ে গেছে ঠিক সেই সময় বার্লিনের রেডিও থেকে এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ভেসে আসে, "আমি সুভাষ বলছি।" জার্মান থেকে জাপান যাওয়া
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার এক গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক সাবমেরিন যাত্রা। যা মূলত আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন
ব্রিটিশ বিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময় জাপানের হাতে বন্দি ভারতীয়দের নিয়ে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন করেন। মোহন সিং ও
রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বে ভারতের যুদ্ধবন্দিদের নিয়ে INA গঠিত হয়।
নেতাজির লক্ষ্য ছিল সশস্ত্র
সংগ্রামের মাধ্যমে ব্রিটিশদের ভারত ছাড়তে
বাধ্য করা। আজাদ হিন্দ ভারতীয়দের মধ্যে স্বাধীনতা ও দেশপ্রেম জাগিয়ে তোলে। জাপানি
বাহিনীর সাথে আজাদ হিন্দ বাহিনী বার্মা ও উত্তর পূর্ব ভারত যেমন ইম্ফল ও কোহিমায় ব্রিটিশের
বিরুদ্ধে লড়াই করে। সুভাসচন্দ্র বোসের ডাকে অনেক নারী যোগ দিয়ে ঝাঁসির রানি বাহিনী
গঠন করে তোলেন।
ভারতীয়দের মধ্যে স্বাধীনতা স্পৃহা এতটাই তীব্র হয়ে উঠেছিল যে তাদের আর দাবিয়ে রাখা
যাবে না। এরকম পরিস্থিতিতে তাদেরও আর শাসন চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নেতাজির এই সাহস
ও উদ্যম, অসম্ভব ত্যাগ ও কষ্টসহিষ্ণুতা ভারতের স্বাধীনতাকে
ত্বরান্বিত করেছিল।
~~000~~

No comments:
Post a Comment