প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

ক্ষণিকের অতিথি | আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত

বাতায়ন / ক্ষণিকের অতিথি /সম্পাদকীয়/ ৩য় বর্ষ/৪৪তম সংখ্যা/২৩শে   ফাল্গুন ,   ১৪৩২ ক্ষণিকের অতিথি  |  সম্পাদকীয়     আতঙ্কবাদ ও আতঙ্কগ্রস্ত ...

Sunday, March 8, 2026

একটু বাতাস | গোবিন্দ সাহা

বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪তম সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি | গল্পাণু
গোবিন্দ সাহা
 
একটু বাতাস

"ক্রমশ তরুণী আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। পাথর কালো নিটোল শরীর। যেন কষ্টি পাথরের তৈরি যুবতী প্রতিমা। বললাম-জল?"

 
বাইক ছুটিয়ে চলেছি। উঁচুনীচু ঢেউ খেলানো রাস্তা। কখনো-বা ঘন সবুজ বন আবার কখনো ধু-ধু প্রান্তর। খেজুর গাছের গা ঘেঁষে চক্কর কেটে বইছে চৈতি হাওয়া। দূর আকাশের গায়ে কে যেন নিখুঁত রং তুলিতে এঁকেছে পাহাড়। আর ওই তালগাছটা ঠিক সমতল ভূমির প্রতিনিধি যেন। তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছে রুখাশুখা এ দেশের সৌন্দর্য।
সেই সকালে থেকে বাইক দৌড়চ্ছে। মাঝে মাঝে অবাক হয়ে দেখছি পাহাড়। এ অঞ্চলের লোক খুব একটা বাংলা বোঝে না। অনেক দূরে দূরে দু-একটা গ্রাম। বাড়িগুলো ছড়ানো-ছিটানো। পাহাড়ি উপজাতিদের মাটির বাড়ি। খেজুর পাতার পাঁচিল।
মানুষের কোলাহল থেকে অনেক দূরে হারিয়ে গেছি। মাঝে মাঝে কে না হারাতে চায়। হঠাৎ দেখি আমার সম্মুখে অনেকগুলো রাস্তা ভেঙে গেছে। ভাবছি কোন দিকে যাই। একজন বৃদ্ধ হেঁটে আসছিল। বললাম,
-আচ্ছা! কোন রাস্তায় ওই রাজমহল পাহাড় যাব?
লোকটা আমার কোন কথা বুঝতে পারল না। আমি সোজা উত্তরে চললাম। বহুদূর পর্যন্ত বন্ধ্যা প্রান্তর। শুধু দুর্বা ঘাসের আচ্ছাদন। ঝোপঝাড়ে নানা রঙের বাহারি ফুল। আমার কাছে যেটুকু জল ছিল অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে। গলা কাঠ হয়ে আসছে। একটু জল...
একটা প্রকাণ্ড অশ্বত্থের নীচে বসেছি। শুষ্ক হাওয়ায় দোদুল্যমান পাতায় রোদের খেলা। শূন্য জগতে আমি এক অনামী জীব। একটু জল ছাড়া আর পারা যাচ্ছে না।
ওই দূরে এক মহিলা মাথায় কলশি নিয়ে যাচ্ছে। হাঁক দিলাম,
-একটু জল হবে?
ক্রমশ তরুণী আমার দিকে এগিয়ে আসতে লাগল। পাথর কালো নিটোল শরীর। যেন কষ্টি পাথরের তৈরি যুবতী প্রতিমা। বললাম,
-জল?
-হ্যাঁ বাবু জল খাবি?
কলশি নামিয়ে সে বসে পড়ল। মুখের ঘাম মুছতে মুছতে বলল,
-ওই দূরের ঝর্ণার জল খাই আমরা। তুই এ জল খাবি?
-জল হলেই হবে।
আমি দুহাত পেতে মুখের কাছে ধরেছি। সে জল ঢেলে দিচ্ছে। এ যেন মোহিনীর সুধা ধারা। সে বলল,
-তোদের শহরে কত আলো কত খাবার কত জল। আমি একবার গিয়েছিলাম। যেন স্বর্গ।
বললাম,
- আমার তো বন-পাহাড়-নদী নির্জন এ দেশ ভাল লাগে।
সে চলে গেল। কে যেন আমায় একটু স্বস্তি দিয়ে গেল। কালো রাত্রির আঁধারে আজো খুঁজি তাকে। সে আমার না আমি তার ক্ষণিক অতিথি ছিলাম কে জানে।
 
~~000~~

No comments:

Post a Comment

ফিরতে হবে ঘরে~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)