বাতায়ন/ক্ষণিকের অতিথি/গল্পাণু/৩য় বর্ষ/৪৪তম
সংখ্যা/২৩শে ফাল্গুন, ১৪৩২
ক্ষণিকের অতিথি
| গল্পাণু
কেয়া নন্দী
দাগ
"ছ' মাস কাটতে না কাটতেই আর এক সুসংবাদ। আর দুজন নয় সুদীপ-সীমা এবার 'তিন' হবে। আন্দাজ পাওয়া মাত্রই জয়া খুব খেয়াল রাখত সীমার।"
ভাবনাটা অনেকদিনই মাথায় ছিল
তবু সাধ আর সাধ্যের সমন্বয় ঘটাতে পারছিল না সুদীপ। হঠাৎই ভাগ্যের চাকাটা গড়াতে
শুরু করল। আজ সেই শুভদিন— সদ্য কেনা ফ্ল্যাটে সুদীপ আর সীমার
প্রবেশ।
নব বিবাহিত তারা। রান্নাটা
কোনরকমে চালিয়ে নিলেও সংসারের অন্যান্য কাজে সীমা একেবারে হিমশিম। স্ত্রীর ওপর
রাগ না করলেও সুদীপ ছবির মতো অন্দরসজ্জার কাঙ্ক্ষী। কিন্তু কী আর
করা!
সবে এসেছে তাই প্রতিবেশীদের
সঙ্গেও তেমন আলাপ হয়নি যে একটা কাজের লোকের সন্ধান দেবে। দিনকয়েক পর হঠাৎই এক
দুপুরে কলিংবেল, দরজা খুলতেই—
-লোক লাগবে, বৌদি?
হাতে চাঁদ পেল সীমা।
সন্ধ্যাবেলা ফিরতেই সীমার কাছ
থেকে সব শুনে নিশ্চিন্ত হয় সুদীপ।
বেশ ক’দিনেই
সুদীপ-সীমার অন্দর-অন্তর আলোময় হয়ে উঠল। শুধু ঘর গোছানোতেই নয় রান্নাবান্নাতেও
জয়া সমান পটু। বেশ গুছিয়ে ঘরকন্না সেরে চলে যায়। ছ' মাস কাটতে না কাটতেই আর এক সুসংবাদ। আর দুজন নয় সুদীপ-সীমা
এবার 'তিন' হবে। আন্দাজ পাওয়া মাত্রই জয়া খুব খেয়াল রাখত সীমার।
বেশ চলছিল হঠাৎই একদিন এলো
না। অসুস্থতার কথাই প্রথমে মনে এলো। এক সপ্তাহ হয়ে গেলে সুদীপ দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করলে সে
বলে,
-ওর স্বামী রাজমিস্ত্রি— এতদিন এ পাড়ায় কাজ ছিল তাই সেই
সুযোগে 'ও' কিছু বাড়তি ইনকাম করছিল। এবার হয়তো অন্য কোথাও কাজ
পেয়েছে তাই চলে গেছে।
কিছুটা ম্লান মুখে ঘরে ঢোকে
সুদীপ। যতই অচেনা হোক কয়েকদিন অতিথির মতোই একসাথে ছিল। স্বভাবগুণে সুদীপ-সীমার
মনে দাগ রেখে যায় জয়া।
~~000~~

No comments:
Post a Comment