প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

শারদীয়া | সম্পাদকীয়

বাতায়ন/শারদীয়া/ সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/১৫তম সংখ্যা/৩১শে ভাদ্র , ১৪৩৩ শারদীয়া সম্পাদকীয়   ফকিরের চাল বাঙালির দুর্গা সার্বজনীন , চিরকালীন । ...

Friday, September 18, 2026

অভিশপ্ত হাইওয়ে ও টাইম লুপ: দিঘার রাতের বিভীষিকা [২য় পর্ব] | গৌরীশ হালদার

বাতায়ন/শারদীয়া/ধারাবাহিক গল্প/৪র্থ বর্ষ/১৬তম সংখ্যা/০৮ই আশ্বিণ, ১৪৩৩
শারদীয়া
ধারাবাহিক গল্প
গৌরীশ হালদার
অভিশপ্ত হাইওয়ে ও টাইম লুপ: দিঘার রাতের বিভীষিকা
[২য় পর্ব]

"তার মুখটা ঝলসানো, কুৎসিত নীল রঙের চামড়া ঝুলছে, আর মুখের ভেতরের দাঁতগুলো এতটাই লম্বা এবং বাঁকা যে তা ঠোট ভেদ করে বেরিয়ে আছে।"

 
পূর্বানুবৃত্তি চার বন্ধু মিলে বাইকে দিঘা যাবার পরিকল্পনা করে মিড-নাইটে বেরিয়ে পড়ে। হাইওয়েতে বাইক খারাপ হয়ে যায়। ওরা দেখে পেট্রল ট্যাঙ্কে পেট্রল নেই অথচ ওরা ট্যাঙ্ক ফুল করে কলকাতা থেকে যাত্রা করেছে। তারপর…
 
তৃতীয় অধ্যায়: কালজাদু ও জানলার ওপাশের ছায়া
সায়ন দেখল, বাথরুমের ছোট জানলাটার ঠিক বাইরে, হোটেলের দেয়ালঘেঁষা ঘন জঙ্গলের অন্ধকারের মধ্যে একটা ছায়ামূর্তি মাটিতে বসে কী যেন করছে! তার সামনে ছড়ানো রয়েছে সিঁদুর, কিছু লাল সুতো আর অদ্ভুত সব কালো জাদুর পুতুল ও হাড়গোড়। লোকটা বা পুতুল সদৃশ সেই সত্তাটি নিজের মনে কী যেন বিড়বিড় করে মন্ত্র পড়ছিল।
ভয়ে চিৎকার করে উঠল সায়ন। সে আর এক মুহূর্তও সেখানে দাঁড়াল না, সোজা আমার আর বাকিদের রুমের দরজায় ধাক্কা দিতে শুরু করল। "অভী! অভী! ওঠো! শিভাম! শিভাম! রিতু! রিতু! সবাই এখানে আয়! দেখ কী হচ্ছে বাইরে!" সায়নের আর্তনাদে আমরা সবাই ঘুম থেকে জেগে উঠলাম। শিভাম আর আমি দরজা খুলে বেরিয়ে এলাম। রিতুও ভয়ে ভয়ে তার রুম থেকে বেরিয়ে এল।
 
আমরা সবাই মিলে সায়নের দেখানো সেই বাথরুমের জানলার কাছে গেলাম। আস্তে আস্তে জানলাটার দিকে উঁকি দিয়ে সায়ন ইশারা করে দেখাল, "ওই দেখ... ওই যে গাছটার নিচে..." আমরা সবাই একসাথে জানলা দিয়ে বাইরে তাকালাম। ঠিক তখনই, সেই অন্ধকারের সত্তাটি আমাদের দিকে মাথা ঘোরালো। এক মুহূর্তের জন্য আমরা যা দেখলাম, তা আমাদের জীবন কেড়ে নেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট ছিল!
 
তার মুখটা ঝলসানো, কুৎসিত নীল রঙের চামড়া ঝুলছে, আর মুখের ভেতরের দাঁতগুলো এতটাই লম্বা এবং বাঁকা যে তা ঠোট ভেদ করে বেরিয়ে আছে। সে আমাদের দিকে তাকিয়ে একটা বিকট, অমানবিক হাসি দিল। আর ঠিক তার পরের সেকেন্ডেই সে শূন্যে মিলিয়ে গেল—যেন সে বাতাসেই মিশে গেছে! সেখানে আর কিচ্ছু নেই, শুধু জঙ্গলটা পাতার মর্মর শব্দে কেঁপে উঠল।
 
সবাই থমকে দাঁড়িয়ে গেলাম। শিভাম ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, "এ... এ কী দেখলাম আমরা?" ঠিক তখনই পেছন থেকে একটা গলা ভেসে এল, "কোনো সমস্যা হয়েছে কি? বা কিছু লাগবে আপনাদের?" আমরা চমকে ঘুরে দেখলাম, সেই রিসেপশনিস্ট লোকটা করিডোরে দাঁড়িয়ে আছে। তার মুখে সেই একই ফ্যাকাশে হাসি। সায়ন ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে বলল, "ওই... ওই জঙ্গলে একটু আগে কে যেন ছিল! আপনি দেখলেন না?" রিসেপশনিস্ট ঠান্ডা গলায় উত্তর দিল, "এই গভীর জঙ্গলে কেউ থাকে না বাবু। আর আমাদের এই হোটেলে তো আজ আপনাদের চারজন ছাড়া আর কেউ চেক-ইনই করেনি। আপনারা ভুল দেখছেন।"
 
সায়নের তখন প্রায় মাথা কাজ করছে না। সে ভয়ে অসংলগ্ন কথা বলতে শুরু করল। আমাদের বাকিদের মনেও এক অদ্ভুত আতঙ্ক চেপে বসল। সবাই তখন ফিশফিশ করে বলতে লাগল, "জায়গাটা সুবিধার নয়। আমাদের এক্ষুনি এখান থেকে পালানো দরকার।"
 
কিন্তু তখনই একটা অদ্ভুত ঘটনা ঘটল। আমরা সবাই যখন রিসেপশনিস্টের দিকে তাকালাম, দেখি সে সেখানে আর নেই! চোখের পলকে সে কোথায় যেন গায়েব হয়ে গেছে! অথচ করিডোরের দরজা বা জানালা সব বন্ধ ছিল। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি রাত তখন ঠিক ৩টা বাজছে—আর কাঁটা যেন ওই তিনটেতেই আটকে গেছে! এগোচ্ছে না একটুও।
 
চতুর্থ অধ্যায়: রিতুর নিখোঁজ হওয়া
ভয়ে আমাদের সবার হাত-পা ঠান্ডা হয়ে এল। অভী গম্ভীর গলায় বলল, "আমাদের যেভাবেই হোক এই নরককুণ্ড থেকে বেরোতে হবে। আর এক মুহূর্তও এখানে থাকা নিরাপদ নয়।" সবাই মিলে নিজেদের রুমে ঢুকে মালপত্র প্যাক করতে শুরু করব, এমন সময় হঠাৎ খেয়াল করলাম—আমাদের মধ্যে একজন কম!
রিতু কোথায়? শিভাম এদিক-ওদিক তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল, "রিতু! রিতু কোথায় গেল রে? একটু আগেও তো ও আমাদের সাথেই ছিল!" আতঙ্কে আমাদের গলার আওয়াজ শুকিয়ে এল। আমরা সবাই মিলে একযোগে চিৎকার করতে লাগলাম, "রিতু! রিতু!" কিন্তু কোনো সাড়া নেই। পুরো হোটেলজুড়ে একটা মৃত নীরবতা।
"চলো, সবাই একসাথে ওকে খুঁজতে যাই," আমি বললাম। আমরা রুম থেকে বেরিয়ে করিডোর ধরে রিসেপশনের দিকে এগোলাম। রিসেপশন রুমটা তখন সম্পূর্ণ অন্ধকার। কেবল একটা মাত্র টেবিলের ওপর একটা কালো মোমবাতি টিমটিম করে জ্বলছে, যার থেকে নীলচে আলো ছড়াচ্ছে।
 
আমরা পকেট থেকে টর্চ বের করে চারপাশ খুঁজতে শুরু করলাম। ঠিক তখনই আমার চোখ গেল রিসেপশন ডেস্কের ঠিক পাশের সেই ছোট জানলাটার দিকে—যেখান থেকে পেছনের জঙ্গলটা দেখা যায়। জানলার কাছে টর্চের আলো ফেলতেই আমাদের সকলের গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল। সেখানে রিতু দাঁড়িয়ে আছে! কিন্তু অদ্ভুতভাবে তার পা দুটো পেছনের দিকে ঘোরানো—মানে তার শরীরটা যেদিকে মুখ করা, পা দুটো উল্টো দিকে! তার চুলগুলো মুখের সামনে এসে জট পাকিয়ে আছে।
 
আমরা ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে ডাক দিলাম, "রিতু? রিতু তুই এখানে কী করছিস?" ঠিক তখনই আমার কাঁধে কেউ একটা ঠান্ডা হাত রাখল। একটা ফিশফিশ করা গলার স্বর কানে এল, "কী হয়েছে? কাকে ডাকছ? আমি তো এখানেই আছি... রিতু তো আমি!"
 
আমি চমকে ঘুরে তাকালাম। দেখলাম রিতু আমার পাশেই দাঁড়িয়ে আছে! সে তো এতক্ষণ আমার সাথেই ছিল!
তাহলে জানলার কাছে ওই উল্টো পায়ের অবয়বটি কে ছিল? আমাদের বুক কাঁপতে শুরু করল। কারণ আমরা একটু আগেই জঙ্গলটার ঠিক ওই জায়গাতেই সেই মুখঝলসানো নীল রঙের ভূতটাকে দেখেছিলাম! আর এখন রিতুও সেই একই জায়গায় অদ্ভুত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে ছিল!
 

ক্রমশ

No comments:

Post a Comment

নাবিকের খোঁজে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)