বাতায়ন/রম্যরচনা সিরিজ/৩য় বর্ষ/৪১তম সংখ্যা/১লা ফাল্গুন, ১৪৩২
রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
দুষ্টু
বরের মিষ্টি বউ
ধারাবাহিক
রম্যঃ দুই
"এই দুপুরে মাঠে ও কী করছে? দু-দুটো আইশক্রিম নিয়ে যাচ্ছে কেন? ওখানে আর কে আছে? এই দুপুরে, মাঠে? ওরা সব কী বলছিল যেন? ও কি তাহলে সত্যি পরকীয়ার ফাঁদে?"
মিষ্টির হাত থেকে রেহাই পেয়ে
এক আকাশ আনন্দ নিয়ে ছুটে এলাম আমাদের পুরানো আড্ডায়। এখানে রোজ আড্ডা বসলেও রবিবার
হল স্পেশাল ডে। যারা কাজ করে তারাও আসে আর অন্যরা তো আসেই এদিন। এসেই বুঝতে পারলাম
আজ আমার দিন। অনেকদিন আসিনি তাই খাওয়ার খরচ দিতে তো হবেই উপরন্তু অনেক কৈফিয়তও
দিতে হবে। তা যা হোক অনেকদিন পর এসেছি আর এরা সব ছোটবেলার বন্ধু তাই মেনে নিতেই
হবে।
উজ্জ্বল, সৌরভ, কৌশিক, রণবীর, জয়নাল, ভবেশ, বিপ্লব, দয়াময় আকাশ বাদশা আর নতুনের যৌথ আড্ডা তখন জমজমাট। সকলকে
দেখে মন ভাল হয়ে গেল। কিন্তু ওরা আমাকে দেখেই চমক খেল। এ ওর দিকে তাকিয়ে চোখ মেরে
নিল। আমি কিছু বলার সুযোগ পেলামই না।
রে রে করে সব তেড়ে এল,
-কি-বে, নতুন বউ তোকে ছাড়ল?
আমি বোকার মতো উত্তরে
দিলাম,
-হ্যাঁ, কেন?
সবাই হো হো করে উঠে আমায়
রামখিস্তি শুনিয়ে ছাড়ল, আমি নাকি কোনদিন মেয়ে
পাইনি তাই আজ এই অবস্থা। বাজে বাজে ইঙ্গিত করে দিল। আমি বেশি তর্কে গেলাম না কারণ
কথাগুলো অনেকটাই ঠিক।
এই বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত
আলোচনা হল। ছেলেরা মেয়েদের পেলে পাগল হয়ে যায়। তাদের নাকি মাথার ঠিক থাকে না। যদিও অনেকেরই বিয়ে
করা বউ আছে ঘরে। কিন্তু তারা নাকি বউকে পাত্তাই দেয় না। ওদের নাকি মাথায় তুলতে
নেই। মাথায় উঠেই ওরা নাকি নাচতে শুরু করে দেয়, তখন ওরা আর কথা শোনে না, বেয়াদপ বনে যায়।
যাহোক কিছুটা সময় কাটার পর
অবস্থা পরিবর্তন হতেই আমার পকেট কেটে স্ন্যাক্স আর কফি আনা হল। যদিও আমি সকলকেই
নিমন্ত্রণ করেছিলাম বিয়েতে। ব্যাটা সৌরভ বলে কী?
-একদিন জল খাওয়াতে হবে...
আমি হেসে উড়িয়ে দিলাম,
-ভাগ শালা। আমার কী হয়েছে যে?
আকাশ খিস্তি দিল,
-যখন বউকে নিয়ে...?
নয়ন আবার টিপ্পনী কাটল,
-তোর বউটা একনম্বরী তো?
-তার মানে?
-আরে এখন সব মেয়েরাই বিয়ের আগে অনেক ছেলের সাথেই...
কৌশিক আরো বদমাশ,
-তুই একা রেখে এলি?
এখন বড়
রিস্ক রে…
বাদশা হঠাৎই উঠে
দাঁড়াল,
-যাহ্ এসব কী বলছিস? ওকে নিয়ে আড্ডা মার আমি উঠি একটু কাজ আছে।
সৌরভ ওকে খিস্তি দিল,
-তুই কি লাইন মারতে চললি? খবর আছে তুই নাকি কাকে নিয়ে পরকীয়া মারাচ্চিস?
-ভাগ শালা,
বলেই বাদশা তেড়েমেরে দৌড় দিল।
বাদশার চরিত্র নিয়ে কথা উঠে
গেল। ওর নাকি মেয়ে দোষ আছে। এর আগে অনেকের ক্ষতি করে ছেড়েছে। এই সব নিয়ে
গবেষণামূলক আলাপ এবং টিকাটিপ্পনী করে নিজেরা কত ভাল তার ব্যাখ্যা
চলল।
বেশ মজা তামাশা হল। অনেকদিন
পর যেন মনটা একপ্রকার হালকা হল। বন্ধুরা ঠিকই বলেছে সব সময় বউ নিয়ে মাতামাতি করতে
নেই। বউকে অত পাত্তা দিতে নেই। ঠিক হল রবিবার রবিবার লালজল খাওয়া হবে।
প্রায় দুপুর একটায় উঠে পড়লাম।
মন বেশ খুশ মেজাজে। বাড়ি যেতেই হবে স্নান খাওয়ার ব্যাপার আছে। অবশ্য এবার আবার
মিষ্টি বউটার জন্য মন কেমন করে উঠল, বেচারি একা একা মন
খারাপ করে আছে হয়তো। যদিও মা আছে। তবুও ও সব ছেড়ে চলে এসেছে আমার কাছে। তাই আমারও একটা
দায়িত্ব আছে। মন কেমন করে উঠল আর আমি জোরে পা চালালাম, ওমা! এ কী দেখছি, ওটা বাদশা না? হ্যাঁ, তাই তো! দুহাতে দুটো কাঠি আইশক্রিম নিয়ে মাঠের দিকে এগোচ্ছে
না? হ্যাঁ তাই তো। এই দুপুরে
মাঠে ও কী করছে?
দু-দুটো আইশক্রিম
নিয়ে যাচ্ছে কেন? ওখানে আর কে আছে? এই দুপুরে, মাঠে? ওরা সব কী বলছিল যেন? ও কি তাহলে সত্যি পরকীয়ার ফাঁদে? মর গে যাক শালা বাদশা! আমার ঘরে সতী মিষ্টি বউ আছে। আর কী চাই? ও মরুক গে... না ঘরে ফিরে যাই...
ক্রমশ

প্রকাশের আনন্দে সকলকে শুভেচ্ছা জানাই ❤️
ReplyDelete