প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | রাজদণ্ড

বাতায়ন/ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ৬ষ্ঠ সংখ্যা/ ২রা আষাঢ় , ১৪৩৩ নাসির ওয়াদেন সংখ্যা | সম্পাদকীয়   রাজদণ্ড "অগণিত ছাপো...

Wednesday, April 8, 2026

কবিতাণু— বিপথে ও অন্যান্য | কবি— পরমেশ্বর গাইন | পর্যালোচক— গৌতম কুমার গুপ্ত

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতাণু— বিপথে ও অন্যান্য
কবি— পরমেশ্বর গাইন
পর্যালোচক— গৌতম কুমার গুপ্ত

"‘সুসময়ে কবি আশার সঞ্চার ঘটিয়েছেন। সুসময়ের পূর্বে প্রলয়মৃত্যমুখী রমণীর অচৈতন্য শরীরী ভাষায় নরকের ছায়াকান্নার কলরোল যন্ত্রণা দুঃসময়ের প্রতীক।"


[কবির নাম না-জেনে শুধু কবিতা ও শিরোনামের ভিত্তিতে এই পর্যালোচনা]
 
[তিনটি অণুকবিতা]
 
বিপথে
 
না-বলা কথার ভাঁজে ভাঁজে
সলতে পোড়া আগুন
চৈত্র চিতার ছাই ওড়া অভিমানের মেঘ
কালো ছায়ায় নেমে আসে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে
 
তখন, বেলা শেষে অশ্রু ভেজা বিশ্বাস
অজান্তে সাড়া দেয় রাতের নিশাচর ডাকে…
 
 
বুড়িয়ে যাওয়া অপত্য
 
ভাঙা নৌকার গলুইতে মাঝির দীর্ঘ নিঃশ্বাস
আটকে গেছে কান্না হয়ে
        দরিয়ার ঝোড়ো আলাপন ছাপিয়ে।
 
এ কূল-ও কূল সব কূলে গভীর নীরবতা
মাঝখানে পারের খেয়ায় ধূসর শূন্যতা…
 
চেয়ে আছে অনন্তকাল
দু’পারের নিষ্ঠুর হৃদয়ে।
 
 
সুসময়ে
 
তখন বজ্রধ্বনির অন্তরালে দেখেছিল প্রলয়…
মৃত্যুমুখী রমণীর অচৈতন্য শরীরী ভাষায়
নরকের ছায়া, কান্নার কলরোল যন্ত্রণায়।
 
মেঘ কেটে গেছে কালো ওড়না সরিয়ে
রামধনু চেয়ে আছে প্রেয়সীর চোখে
স্নিগ্ধ ধরণির দিকে…
 
প্রথম কবিতাণু ‘বিপথে যেখানে পথের কোন সত্যিকারের দিশা নেই, সলতে পোড়া আগুন বা চিতার ছাই ওড়া অভিমানের মেঘ শব্দবন্ধে লক্ষ্যপথের জটিলতা নির্দেশ করে, জীবনের শেষ বেলাতেও অবিশ্বাস থাকে, যা কবির কথায় অশ্রুভেজা বিশ্বাস চারিয়ে যায়, রাতের নিশাচরের ডাকে অশুভ সংকেত।
 
দ্বিতীয় কবিতাণু বুড়িয়ে যাওয়া অপত্য যেখানে কবি সময়ের অকালপক্কতা অনুধাবন করতে চেয়েছেন, ভাঙা নৌকার গলুই, মাঝির দীর্ঘনিঃশ্বাস, দরিয়ায় অর্থাৎ প্রবহমান সময় বাধাপ্রাপ্ত হয়, কান্না অর্থাৎ শোক ছড়িয়ে যায়। নীরবতা, ধূসর শূন্যতা মিলে অসময় যেন অনন্তকাল পারাপারকে থমকে রেখেছে।
 
"চেয়ে আছে অনন্তকাল
দু’পারের নিষ্ঠুর হৃদয়ে।"
 
তৃতীয় কবিতাণু সুসময়ে কবি আশার সঞ্চার ঘটিয়েছেন। সুসময়ের পূর্বে প্রলয়, মৃত্যমুখী রমণীর অচৈতন্য শরীরী ভাষায় নরকের ছায়া, কান্নার কলরোল যন্ত্রণা দুঃসময়ের প্রতীক।
 
এই দুঃসময় কাটিয়ে কবির চোখে সুসময়ের ইঙ্গিত আসে যখন তিনি দেখেন...
 
মেঘ কেটে গেছে কালো ওড়না সরিয়ে
রামধনু চেয়ে আছে প্রেয়সীর চোখে
স্নিগ্ধ ধরণির দিকে…।
 
কবিতাটি ইতিবাচক, উপসংহারের মতো প্রেম বিধৃত হয়ে পৃথিবীকে স্নিগ্ধতা দান করেছে।
 

1 comment:

  1. সঙ্ঘমিত্রাApril 21, 2026 at 10:47 PM

    অসাধারণ

    ReplyDelete

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)