প্রাপ্তমনস্কদের পত্রিকা ~ ~ ~ নাম নয় মানই বিবেচ্য

আতঙ্ক | সাগর না কুয়ো

বাতায়ন/ আতঙ্ক / সম্পাদকীয় /৪র্থ বর্ষ/ ২য় সংখ্যা/১ ৭ই বৈশাখ ,   ১৪৩৩ আতঙ্ক | সম্পাদকীয়   সাগর না কুয়ো "যদিও এখানে পিংপং-সাহিত্য বা চটি...

Wednesday, April 8, 2026

কবিতা— ধূমকেতু | কবি— রুবি রায় | পর্যালোচক— কৌশিক চক্রবর্তী

বাতায়ন/চৈতি হাওয়া—নববর্ষ/পর্যালোচনা/৪র্থ বর্ষ/১ম সংখ্যা/১লা বৈশাখ, ১৪৩৩
চৈতি হাওয়া—নববর্ষ | পর্যালোচনা
কবিতা— ধূমকেতু
কবি— রুবি রায়
পর্যালোচক— কৌশিক চক্রবর্তী

"শরীর ও অন্তর সবকিছু পূর্ণ হওয়ার পরেও “সংশয়” থেকে যাচ্ছে।
এই জায়গায় বলতে হয়সম্পূর্ণতা এলেও মানসিক অস্থিরতা কাটছে না। এ এক অদ্ভুত টানাপোড়েন। যেখানে কবি নিজেই বড় আবেদনমুখী৷"

 
 
নিখুঁত দক্ষতায় বিপ্লব এঁকে দাও অধরোষ্ঠে
 
নাভির শীৎকারে তোমার আদুরে বায়নারা পিছলে যাচ্ছে কুচযুগল তীরে
 
ঘোমটাহীন সানুদেশ নহবতে পরিপূর্ণ হবার পরেও
সংশয় মাথা রাখে বিকেলের কেমন করা রোদে।
বিনোদিনীর হাটভাঙা সন্ধ্যাঞ্চলে ছায়ারা অদৃশ্য
 
অভিযোজনীয় অশ্রুজল হয়ে ওঠে তার সর্বকালের জাতীয়তা
 
 
ধূমকেতু মানেই হঠাৎ আগমন, তীব্রতা, আলো আর অস্থিরতা। এটা এখানে এক ধরনের বিপ্লব, আকস্মিক আবেগ, বা অশান্ত পরিবর্তনের প্রতীক।
 
নিখুঁত দক্ষতায় বিপ্লব এঁকে দাও অধরোষ্ঠে”
 
এখানে “অধরোষ্ঠ” (ঠোঁট)  প্রেম, কামনা, ভাষা সবকিছুর প্রতীক।
বিপ্লব আঁকা” মানে প্রেম বা আবেগও এখানে শান্ত নয়, বরং তীব্র, পরিবর্তনশীল, বিদ্রোহী। অর্থাৎ, প্রেমটাও এখানে একটা বিপ্লব।
অন্যদিকে “নাভির শীৎকারে… কুচযুগল তীরে”
এই অংশে শরীরী ইমেজ খুব প্রবল। নাভি, কুচযুগল - সবই নারীর শরীরের প্রতীক, কিন্তু তা সরাসরি না হয়ে কামনা ও আকর্ষণের বিমূর্ত প্রকাশ।
আদুরে বায়না পিছলে যাচ্ছে" - আকাঙ্ক্ষা পূরণ হচ্ছে না, বা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এখানে অপ্রাপ্তি, কামনা, শরীরী টানাপোড়েন একসাথে প্রকাশ পেয়েছে খুব প্রবলভাবে৷
ঘোমটাহীন সানুদেশ… সংশয় মাথা রাখে”
ঘোমটাহীন” উন্মুক্ততা, লজ্জাহীন সত্য “সানুদেশ” - শরীর ও অন্তর সবকিছু পূর্ণ হওয়ার পরেও “সংশয়” থেকে যাচ্ছে।
এই জায়গায় বলতে হয়, সম্পূর্ণতা এলেও মানসিক অস্থিরতা কাটছে না। এ এক অদ্ভুত টানাপোড়েন। যেখানে কবি নিজেই বড় আবেদনমুখী৷
আবার “বিকেলের কেমন করা রোদ” এর মধ্যে একটা ক্লান্ত, ঝিম ধরা, অনিশ্চিত সময় লুকিয়ে রয়েছে৷ যেখান থেকে এক নতুন সন্ধ্যার সুত্রপাত হয়।
বিনোদিনীর হাটভাঙা সন্ধ্যাঞ্চল”
বিনোদিনী” এক নারীর প্রতীক, বা নাটকীয় ও নান্দনিক চরিত্র। এখানে নিতান্ত এক multi layered character.
হাটভাঙা সন্ধ্যা” দিনের শেষ, ক্লান্তি, শূন্যতা
ছায়ারা অদৃশ্য” যা ছিল, তা আর নেই - অর্থাৎ অস্তিত্বের ফাঁকা হয়ে যাওয়া। কবির এই নিঃস্ব ভাবটুকুই নতুন করে কবিতার জন্ম দিতে পারে। “অভিযোজনীয় অশ্রুজল… জাতীয়তা” এটা সবচেয়ে শক্তিশালী লাইনগুলোর একটি।
অভিযোজনীয় অশ্রুজল” কান্নাও মানিয়ে নিতে শিখে গেছে৷ “জাতীয়তা” ব্যক্তিগত অনুভূতি একটা বৃহৎ পরিচয়ে রূপ নিচ্ছে। যা এখানে ব্যক্তিগত দুঃখ ও সর্বজনীন অভিজ্ঞতা হয়ে উঠছে
এই কবিতায় তিনটা স্তর একসাথে কাজ করছে -
১. শরীর ও কামনা
নারীর শরীরের ইমেজ ব্যবহার করে তীব্র আকর্ষণ ও অস্থিরতা দেখানো হয়েছে।
২. মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব
পূর্ণতা এলেও সংশয়, অপ্রাপ্তি, ক্লান্তি - সব রয়ে যাচ্ছে।
৩. ব্যক্তিগত থেকে সর্বজনীন হয়ে শেষে ব্যক্তিগত কান্না এক ধরনের “জাতীয়তা” বা collective identity হয়ে উঠেছে৷
 

No comments:

Post a Comment

খাবারের সন্ধানে ~~~


Popular Top 10 (Last 7 days)