বাতায়ন/নবান্ন/রম্যরচনা/৩য় বর্ষ/৩৬তম সংখ্যা/১৬ই পৌষ, ১৪৩২
নবান্ন | রম্যরচনা
প্রদীপ
কুমার দে
রসের
জুটি
ধারাবাহিক
রম্য— নয়
"আমি একটা মারাত্মক ভুল করে ফেলেছি, তোর বউমার তিনমাস বলে ফেলেছি। আমি বলতে চেয়েছিলাম তোর বউমার মা তিনমাসের গর্ভবতী"
আদর দেবরকে নিয়ে ছোটে মাসির
বাড়ি। মাসিকে গিয়ে আদর অভিযোগ জানায়,
-এই দেখো মাসি তোমার উল্টোপাল্টা কথার জন্যে কী অবস্থা
দাঁড়িয়েছে। আমার শ্বশুরবাড়ির সবাই ভুল বুঝে বসে আছে আমার
নাকি তিনমাস। কী বাজে কথা, লজ্জায় মাথা লুকাতে হবে এবার। ছি ছি! তোমাদের
জামাই কী ভাবলে?
মাসি সব কথা ভাল করে শুনে
বুঝে নেয় ক্যাবলার কাছ থেকে। মারাত্মক ভুল হয়ে গেছে। সে বলতে চেয়েছে এক, আর হয়ে গেছে অন্য কথা। মাসি তাড়াতাড়ি ফোনে ধরে বোনকে,
-আরে, শোন, আমি একটা মারাত্মক ভুল করে ফেলেছি, তোর বউমার তিনমাস বলে ফেলেছি। আমি বলতে চেয়েছিলাম তোর বউমার মা তিনমাসের গর্ভবতী,
তাই তোর
বউমার মাথা কাজ করছে না তাই ভয় পেয়ে তোদের ওখান থেকে তড়িঘড়ি চলে এসেছে...
মাসি তাড়াতাড়ি ফোন কেটে
বোনপোর সাথে কথা বলতে শুরু করে। বোনপো ক্যাবলা আগেই অনেক বলেছে এখন আবারও সব বললে।
কিন্তু যে কথাটা ক্যাবলা মাসির কাছে আর্জি রাখল তা হল তার বিয়ের কী হবে,
-কেবল নিজেদের কথাই বলে যাচ্ছ। কই মাকে আমার বিয়ের কথা
জানালে না কেন?
মাসি এবার হেসে মরে,
-শুনেছিস আদর
তোর দেবরের কথা। ক্যাবলা তোর মতো মেয়েকেই বিয়ে করে নিতে চায়, এবার কিছু একটা কর,
দেখ তোর
কোন সুন্দরী বন্ধু পাস কিনা?
আদর দেবরকে নিয়ে বিপাকে।
বাইরে বেরিয়ে পড়ে। যাওয়ার সময় বলে যায়।
-আমি এখনই আসছি। তোমরা গল্প করো। ওকে খেতে দাও।
মাসি বোনপোকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে
পরে। খাইয়ে দাইয়ে ওর মন ছুঁতে চায়।
ততক্ষণ অন্য দুই বাড়ির অবস্থা
বেসামাল। হ্যাবলা আর মা দিশাহারা। শাশুড়ি মা তার বউমার জন্যে আর হ্যাবলা তার সদ্য
বিয়ে করা বউয়ের জন্যে। তারা যে ভুলের শিকার হয়ে পড়েছিল এটা
বুঝেই অস্থির হয়ে উঠেছে। বউমাকে ফিরিয়ে আনতে তারা দুজন
চাকদার উদ্দেশে পাড়ি দেয়।
আর একটা বাড়ি আদরের নিজের
বাড়িতেও তার মা-বাপ লজ্জার শিকার হয়ে পড়ে। এক মেয়ে আদরের জন্যে আর দুই শাশুড়ি আবার মা হবে
এটা ভেবেই।
ক্রমশ

আমার এই গল্প ধারাবাহিকভাবে প্রকাশের জন্য পত্রিকার সম্পাদক, সহ লেখক, পাঠক সকলকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি 🙏
ReplyDeleteধারাবাহিক পড়ে বেশ হাসি পাচ্ছে, কলম রোমান্টিক রম্য মধুর 🩷
ReplyDelete